ট্রেন ছাড়ার আগে দুই-তিন গুণ বেশি দামে টিকিট বেচতেন তাঁরা

অথর
কুষ্টিয়া অনুসন্ধান নিউজ ডেক্স :   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ৫:২৭ পূর্বাহ্ণ | নিউজটি পড়া হয়েছে : 233 বার
ট্রেন ছাড়ার আগে দুই-তিন গুণ বেশি দামে টিকিট বেচতেন তাঁরা

ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি চক্রের হোতা উত্তম দাস ও তাঁর তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৩। তাঁদের কাছ থেকে ৪২টি টিকিট জব্দ করা হয়। র‌্যাব জানায়, ট্রেন ছাড়ার ৩-৪ ঘণ্টা আগে দুই থেকে তিন গুণ বেশি দামে টিকিট বিক্রি করতেন তাঁরা।

গ্রেপ্তার অন্য তিনজন হলেন- মো. ইলিয়াস, শাহ আলম ও খোকন মিয়া। বুধবার রাজধানীর কমলাপুর ও বিমানবন্দর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানাতে আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর টিকাটুলিতে র‌্যাব-৩ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, কমলাপুর রেলস্টেশনে কালোবাজারি চক্রের সদস্যরা লাইনে দাঁড়িয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে টিকিট কেনেন। এ ছাড়া অনলাইনেও টিকিট কেনেন তাঁরা। এরপর নির্দিষ্ট ট্রেন ছাড়ার কয়েক ঘণ্টা আগে থেকে উত্তমের নেতৃত্বে তাঁরা বেশি দামে টিকিট বিক্রির তৎপরতা শুরু করেন। ট্রেন ছাড়ার সময় যত ঘনিয়ে আসতে থাকে, তাঁদের মজুত করা টিকিটের দাম তত বাড়ানো হয়।

র‌্যাবের অধিনায়ক আরও জানান, চক্রের সদস্যরা মূলত সোনার বাংলা, কালনী এক্সপ্রেস, চট্টলা এক্সপ্রেস, তুর্ণা নিশিথা, পঞ্চগড় এক্সপ্রেস, সুন্দরবন এক্সপ্রেস, তিস্তা এক্সপ্রেস, মহানগর প্রভাতী, জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস, ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেসও পারাবত এক্সপ্রেসের টিকিট কালোবাজারি করে থাকে। তাদের আরও ইউনিট রয়েছে। প্রতি ইউনিটে ৫-৭ জন আছে।

তিনি জানান, চক্রের হোতা উত্তম দাস নিজের জেলা কুমিল্লার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পরিচয় ব্যবহার করে এবং স্টেশনে কর্মরত অসাধু চক্রের যোগসাজশে ২০১৮ সাল থেকে টিকিট কালোবাজারি করে আসছে। মূলত তার অধিনস্ত কর্মীরাই বিভিন্ন মাধ্যমে টিকিট সংগ্রহ করে পরে চড়া দামে বিক্রি করে থাকে। এর আগে উত্তম দু’বার গ্রেপ্তার হয়ে বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত হন। এরপর তিনি আবারও একই কাজে জড়িয়ে পড়েন।

র‌্যাব জানায়, উত্তম ও তার সহযোগীরা কমলাপুর স্টেশন থেকে বিভিন্ন জেলার স্টেশনে তাদের এজেন্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও টিকিট কালোবাজারি করে। ট্রেনের ৫০ শতাংশ টিকিট অনলাইনে বিক্রি হয়। এতে অনেকে কাউন্টারে এসে টিকিট না পেয়ে ফিরে যান। বেশি দামে টিকিট বিক্রির জন্য এই যাত্রীদেরই টার্গেট করে চক্রের সদস্যরা। অনেক সময় তারা রিকশাওয়ালা, কুলি, দিনমজুরদের অল্প টাকার বিনিময়ে লাইনে দাঁড় করিয়ে টিকিট সংগ্রহ করিয়ে নেন।

র‌্যাব আরও জানান, টিকিট কালোবাজারির দায়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে ছয়টি মামলা আছে গ্রেপ্তার হওয়া খোকন মিয়ার নামে। তিনি র‌্যাব-৩ এর অভিযানে গ্রেপ্তার হয়ে কয়েক দফা কারাভোগ শেষে জামিনে মুক্তি পান। অপর আসামি শাহ আলমের বিরুদ্ধেও টিকিট কালোবাজারির ছয়টি মামলা রয়েছে। তিনিও এর আগে বেশ কয়েকবার গ্রেপ্তার হয়েছেন। আর ইলিয়াসের নামে মামলা আছে একটি।

সংবাদটি শেয়ার করুন