মঙ্গলবার, ০৩ অগাস্ট ২০২১, ০৪:২৩ অপরাহ্ন

বাংলাদেশে পর্যটন শিল্পে ক্যারিয়ার গঠনের অপার সম্ভাবনা

আলিফ ইবনে সাবা হৃদয়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
  • প্রকাশিত সময় : সোমবার, ১২ জুলাই, ২০২১
  • ১৭১ পাঠক পড়েছে

বিশ্ব একটি বই এবং যারা ভ্রমণ করে না তারা যেন এই বই এর শুধুমাত্র একটি পৃষ্ঠা পড়ল – হিপ্পো অগস্টিন।

বিশ্বে বিভিন্ন ধরনের শিল্প খাত রয়েছে তার মধ্যে একটি অন্যতম শিল্প খাত হলো পর্যটন।

মূলত পর্যটন বলতে যা বোঝায় এক ধরনের বিনোদন, অবসর অথবা ব্যবসায় কিংবা চিকিৎসার উদ্দেশ্যে এক দেশ থেকে অন্য দেশে ভ্রমণ করা। মানুষ দৈনন্দিন জিবনের একঘেয়েমিতা দূর করতে এবং অজানাকে জানার জন্য ভ্রমণের ইচ্ছা পোষণ করে। আর তাদেরকে ঘিরে পর্যটন শিল্পে আওতায় গড়ে উঠে বিভিন্ন সেবামৃলক প্রতিষ্ঠান যেখানে ক্যারিয়ার গঠনের ক্ষেত্রে অপার সুযোগ ও সম্ভাবনা পায় ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

বর্তমান বিশ্বে কর্মক্ষেত্রে নিজেকে এগিয়ে রাখতে এবং ভবিষ্যতে ভালো কিছু করার জন্য শিক্ষার্থীদের বেছে নেয়া উচিত এমন কোন পেশা যেটি হবে সহজ, সাবলীল, শৃঙ্খলাময় এবং লাভজনক। এক্ষেত্রে বেশ গুরুত্বপূর্ণ হলো পর্যটন শিল্প সম্পৃক্ত পেশায় অপার সম্ভাবনার বিষয়টি। পৃথিবীর প্রতিটি দেশে তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি, নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, জিবনযাপন, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন এবং ইতিহাস সারা বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে চায়। যার মূল স্তম্ভ হলো পর্যটন শিল্প। বর্তমানে বাংলাদেশ এবং বিশ্বের সকল দেশে পর্যটনের চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে। তাই শিল্পে ভবিষ্যতে বিপুল পরিমান দক্ষ জনবলের প্রয়োজন হবে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে পর্যটনের চাহিদা বৃদ্ধি ও অপার সম্ভাবনার প্রধান কারন হলো প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। যুগে যুগে ভ্রমণকারীরা মুগ্ধ হয়েছেন এদেশের অপার রূপবৈচিত্রময় সৌন্দর্যে। এইজন্য বলা হয় বাংলাদেশ হলো সৌন্দর্যের লীলাভূমির এক অনন্য দেশ। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন, পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার, পার্বত্য চট্টগ্রামের অকৃত্রিম সৌন্দর্য, সিলেটের সবুজের অরণ্যসহ আরও অনেক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি হলো আমাদের বাংলাদেশ।

এছাড়াও রয়েছে সিলেটের চা বাগান, বিছানাকান্দি, বাংলাদেশের হাওর অঞ্চল ইত্যাদি। সমুদ্র সৈকতের দিক থেকে পৃথিবীর একমাত্র দীর্ঘতম অবিচ্ছিন্ন সমুদ্র সৈকত হলো কক্সবাজার। বর্তমানে কক্সবাজারকে আরও বেশি পর্যটকের আকর্ষনের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষে তিনটি পর্যটন পার্ক তৈরি করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ তিনটি ট্যুরিজম পার্ক হলো সাবরাং ট্যুরিজম পার্ক, নাফ ট্যুরিজম পার্ক, এবং সোনাদিয়া ট্যুরিজম পার্ক।

এতে প্রতিবছর বাড়তি ২০০ কোটি মার্কিন ডলারের অর্থনৈতিক কার্যক্রমের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং তরুনদের জন্য সৃষ্টি হবে কর্মসংস্থানের নতুন সন্ধান। WTTC এর মতে, বিশ্বের ১৮৪ টি পর্যটন সমৃদ্ধ দেশের মধ্যে ২০১৫ সালের রেঙ্কিং এ বাংলাদেশের অবস্থান ছিলো ৬০ নম্বরে।

১০ বছর পর বাংলাদেশের অবস্থান ১৮ তমতে চলে আসবে। ফলে বাংলাদেশের জাতীয় আয়ে বিশাল অবদান রাখবে শিল্পটি।

WTTC এর মতে, ২০১৩ সালে পর্যটন খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিলো ১৩ লাখ। যেখানে বলা হয়েছে ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত গড়ে প্রতিবছর ২ দশমিক ৭ শতাংশ বৃদ্ধির সম্ভাবনা আছে। সেই অনুযায়ী ২০২৪ সালে মোট কর্মসংস্থানের মধ্যে পর্যটন খাতের
অবদান দাড়াবে ১ দশমিক ৯ শতাংশ।

পর্যটন কর্পোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের পর্যটন স্পট রয়েছে ৬৮ টি এবং আবাসনের জন্য সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে হোটেল মোটেল আছে ৪০৪ টি। এরই প্ররিপেক্ষিতে বর্তমানে দেখা যাচ্ছে প্রতিনিয়ত ঢাকায় এখন আন্তর্জাতিক মানের চেইন হোটেল চালু হচ্ছে।

বিনোদন কেন্দ্রগুলোর নতুন অংশ হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে রির্সোটগুলো। এ থেকে বোঝা যায় ভবিষ্যতে বিদেশি পর্যটকদের সংখ্যা বাড়বে। আর তাদেরকে সেবা দেয়ার জন্য প্রয়োজন হবে ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের পারদর্শী জনবল। কিন্তু এই বিভাগ পরিচালনায় দক্ষ ও কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন লোকের বড়ই অভাব।

যার ফলশ্রুতিতে আমরা শিক্ষার্থীরা অপার সম্ভাবনা থাকা সত্বেও এ খাতে অগ্রগতি করতে পারছি না। বর্তমানে বাংলাদেশে সরকারি ও বেসরকারি প্রায় বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে এ বিষয়ে পড়ার সুযোগ আছে। তাই সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্যারিয়ার গঠনের অঢেল সুযোগ – সুবিধা থাকছে এই বিভাগের শিক্ষার্থীদের।

বাংলাদেশের বিমান থেকে শুরু করে বিভিন্ন আন্তজার্তিক বিমানে কেবিন ক্রু, স্টুয়ার্ড হিসাবে কর্মরত আাছে ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

এছাড়াও বাংলাদেশের বিভিন্ন আন্তজার্তিক মানের পাঁচ তারকা হোটেলের ম্যানেজার এবং সুপার ভাইজার পদে কাজ করছে তারা। শুধু হোটেল এ নয় মোটেল, রিসোর্ট, বিভিন্ন পদে কর্মরত আছেন তারা। এইগুলো ছাড়াও ক্যারিয়ার গঠনের সুযোগ রয়েছে বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সি, ট্যুর অপারেটর, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট, ক্রুজ সংস্থা, শিক্ষা ও গবেষনা, খাদ্য সংস্থা, পর্যটন সাংবাদিকসহ বিভিন্ন সেবা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে।

ভবিষ্যতে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিদ্যালয়, কলেজ ও সরকারি প্রজেক্টে কাজ করার সুযোগ। দেশের পাশাপাশি উন্নত ক্যারিয়ার গঠনের ক্ষেত্রে বিদেশে অঢেল সুযোগ-সুবিধা রয়েছে এ বিভাগের শিক্ষার্থীদের।

বাংলাদেশের পর্যটন খাতে বর্তমানে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ১৫ লক্ষ ও ২৩ লক্ষ মানুষ কর্মরত আছেন।

পর্যটনের অপার সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ হবে দক্ষিণ একটি আদর্শ পর্যটন নগরী, যা শুধু অর্থনৈতিক চাকাকে সচল করবে না সেই সাথে বিশ্ব পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরবে।

ধারনাগতভাবে অনেকে মনে করেন এই বিভাগের শিক্ষার্থীরা শুধু ট্যুরিজম নিয়ে কাজ করবে কিন্তু তা নয় কথাটি পুরোটাই ভিত্তিহীন। দেশের প্রতিটি সেক্টরে কাজ করতে পারবে এ বিভাগে শিক্ষার্থীরা। তাই বলা যায় এ বিভাগের ছাত্র ছাত্রীরা এ বিষয়ে ক্যারিয়ার গঠনের মাধ্যমে নিজের, দেশের এবং পর্যটনে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সম্ভাবনাকে বাস্তবায়নের মাধ্যমে ব্যাপক ভূমিকা পালন করবে।

নিউজটি শেয়ার করে আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
© All rights reserved © 2019-2020 । কুষ্টিয়া অনুসন্ধান
Design and Developed by DONET IT
SheraWeb.Com_2580