চাকরি দেয়ার নামে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়, ছিনতাই, অপহরণ, প্রতারণা করত একটি চক্র। গত চার বছরে চক্রটি ৬০টির অধিক এমনই সব অপরাধমূলক কর্মকান্ড করেছে বলে জানায় র্যাব।
সর্বশেষ আশুলিয়ায় আরিফ নামে ১৯ বছরের এক তরুণকে চাকরি দেয়ার নামে অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চার জনকে গ্রেপ্তারের পর এ তথ্য সামনে আসে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন রাজশাহীর বাগমারা থানার শ্রীপতিয়াপাড়া গ্রামের সেন্টু সরদার (৩৫), দিনাজপুরের বীরগঞ্জ থানার নৌপাড়া গ্রামের জমির উদ্দিন (৩৩), সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা থানার রাব্বি আহম্মদ (২৭) ও টাঙ্গাইলের গোপালপুর থানার কামদেববাড়ী গ্রামের জহিরুল ইসলাম (৩৫)।
তারা ৪ জনই গাজীপুর ও আশুলিয়ার বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিক। রবিবার দুপুরে র্যাব-৪, সিপিসি-২ এর অধিনায়ক লে. কমান্ডার রাকিব মাহমুদ খাঁন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
র্যাব জানায়, গত ২১ জানুয়ারি আশুলিয়ার কলতাসুতি গ্রামে একটি কবরস্থানে আরিফকে চাকরি দেয়ার কথা বলে কৌশলে ডেকে নিয়ে যায় চক্রের মূলহোতা সেন্টু সরদার। পরে সেখানে আগে থেকে উপস্থিত চক্রের অন্য সদস্যরা তাকে জিম্মি করার চেষ্টা করে ও মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে।
এতে বাঁধা দিলে আরিফকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে পালিয়ে যায় তারা। এ ঘটনার পর থানায় মামলা দায়ের হলে তদন্ত করে জড়িত চার জনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। পরে তাদেরকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, চক্রটি চাকরি প্রার্থী পোশাক শ্রমিকদের টার্গেট করে চাকরির প্রলোভন দেয়। কারখানার ভুয়া জিএম সেজে দেখা করার নামে কৌশলে নির্জন স্থানে নিয়ে জিম্মী করে মুক্তিপণ দাবী করে।
প্রথমে চক্রের মূলহোতা সেন্টু বিভিন্ন কারখানার সামনে চাকরি প্রার্থীদের টার্গেট করে মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করত। পরে অপর আসামী জমির উদ্দিন নিজেকে কারখানার মহাব্যবস্থাপক পরিচয় দিয়ে কৌশলে নির্জনস্থানে ডেকে আনে। পরে চাকরিপ্রার্থীকে জিম্মী করে মারধর ও মুক্তিপণ আদায় করত। বাকী আসামীরা তাদের সহযোগী হিসেবে কাজ করত।
সম্পাদক : এ. এন. এম. তৌফিক তপন, প্রকাশক : সানজীদা নেওয়াজ। মোবাইল : 017 11 66 79 53
ইমেইল : kushtiaanusandhan@gmail.com ৫৩/১, কাজী নজরুল ইসলাম রোড কোর্টপাড়া, কুষ্টিয়া-৭০০০
Copyright © 2026 কুষ্টিয়া অনুসন্ধান. All rights reserved.