২৪ কোটি টাকা খরচ, ঝুলিতে মাত্র এক ব্রোঞ্জ

অথর
কুষ্টিয়া অনুসন্ধান নিউজ ডেক্স :   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :5 October 2026, 7:40 AM | নিউজটি পড়া হয়েছে : 2 বার
২৪ কোটি টাকা খরচ, ঝুলিতে মাত্র এক ব্রোঞ্জ

বিশাল বহর, মোটা অঙ্কের বাজেট আর একের পর এক আশার বাণী—সবকিছুর পরিণতি শেষ পর্যন্ত একটি মাত্র ব্রোঞ্জ পদক! জাপানের আইচি ও নাগোয়া শহরে অনুষ্ঠিত ২০তম এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের সফর শেষ হলো এক হতাশাজনক পরিসংখ্যান দিয়ে।

এবারের এশিয়ান গেমসে অংশ নিতে ১৮৭ জন অ্যাথলেট এবং ৭৩ জন কোচ ও কর্মকর্তা মিলিয়ে ২৬০ জনের এক বিশাল বহর পাঠায় বাংলাদেশ ওলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ)। বিগত আসরগুলোর তুলনায় এবার খেলার পরিধিও বাড়িয়ে ১৭টি থেকে ২২টি ডিসিপ্লিনে অংশ নেওয়া হয়। অ্যাথলেটদের প্রস্তুতি ও অংশগ্রহণের জন্য জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ থেকে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছিল প্রায় ২৪ কোটি টাকা (প্রায় ২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার)। কিন্তু এত বিপুল অর্থ ব্যয় আর প্রস্তুতির পর দিনশেষে অর্জনের ঝুলিতে জমেছে কেবল একটি ব্রোঞ্জ, যা এসেছে উশু থেকে—এমন এক খেলা, যেখানে আগেই কোনো পদকের প্রত্যাশা ছিল না। মজার কথা হলো সেই পদকও এসেছে না খেলেই, ওই ইভেন্টে এক প্রতিযোগী বাদ পড়ায় বাংলাদেশের অ্যাথলেট সেমিতে উঠেন, সেমিতে হারলেও নিয়ম অনুযায়ী ব্রোঞ্জ পদক পেয়ে যান।

Deeply ashamed’: Salahuddin apologises after Bangladesh’s Asian Games failure | The Daily Starআশার প্রদীপ ক্রিকেট ও কাবাডিতে বড় ধাক্কা

বিগত ১৪টি এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের মোট ১৪টি পদকের রেকর্ড ছিল, যার মধ্যে ৬টি ক্রিকেট, ৭টি কাবাডি এবং ১টি বক্সিং থেকে আসা। তাই এবারও দেশ ছাড়ার আগে বিওএ-এর সহসভাপতি ও শেফ ডি মিশন ইমতিয়াজ আহমেদ আশা প্রকাশ করে বলেছিলেন, “গত আসরে ব্রোঞ্জ জেতা ক্রিকেট, আর আর্চারি, শুটিং ও কাবাডি নিয়ে আমাদের উচ্চ আশা আছে।”

তবে ময়দানের লড়াইয়ে দৃশ্যপট সম্পূর্ণ উল্টো। সবচেয়ে বড় হতাশা উপহার দিয়েছে ক্রিকেট। সেমিফাইনালে পাকিস্তানের কাছে হেরে সোনার স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার পর, ব্রোঞ্জ নির্ধারণী ম্যাচে শ্রীলঙ্কার কাছে ৬৩ রানে হেরে শূন্য হাতে মাঠ ছাড়ে লিটন দাসের দল। অন্যদিকে বাংলাদেশের জাতীয় খেলা কাবাডি, যা একসময় এশিয়ান গেমসে পদকের অন্যতম প্রধান উৎস ছিল, সেখান থেকেও এবার কোনো পদক আসেনি।

নারী ফুটবলেও ছিল কেবলই হতাশা। নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচেই মোট ১৬টি গোল হজম করে তারা, যার মধ্যে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষেই তারা হেরেছে ১০-০ গোলে। দুটি ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে একটি গোলও করতে পারেনি বাংলাদেশ। শেষ ম্যাচে মিয়ানমারের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে তারা প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নেয়।

ব্যর্থতার মূলে প্রস্তুতির অভাব ও অস্থিরতা

এত বড় বাজেটের পর এমন পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন উঠলে সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানান, “সত্যি বলতে পারফরম্যান্স মোটেই সন্তোষজনক নয়। তবে এর চেয়ে বেশি কিছু প্রত্যাশাও করা যেত না। খেলোয়াড়রা পর্যাপ্ত অনুশীলনের সময় পায়নি, ফেডারেশনগুলোতে বারবার রদবদল হয়েছে। এসব কারণে খেলোয়াড়দের গেমস পর্যায়ের প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত হওয়ার মতো উপযুক্ত পরিবেশ ছিল না।”

দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থান

এশিয়ান গেমসে প্রতিবেশী দেশগুলোর সাফল্যের সঙ্গে তুলনা করলে বাংলাদেশের এই পারফরম্যান্স আরও করুণ দেখায়। যেখানে ভারত ২১টি সোনা সহ মোট ৮৫টি পদক জিতে শীর্ষে অবস্থান মজবুত করেছে, সেখানে শ্রীলঙ্কা একটি সোনা সহ দুটি পদক জিতেছে। কোনো সোনা না পেলেও পাকিস্তান জিতেছে ৭টি পদক, এমনকি নেপালও বাগিয়ে নিয়েছে দুটি ব্রোঞ্জ পদক। তাদের তুলনায় বাংলাদেশের কেবল একটি ব্রোঞ্জ জয় এটাই তুলে ধরে যে, প্রতিবার প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে যাওয়া হলেও জয়ের মনোভাব নিয়ে খেলার মতো কোনো দৃশ্যমান উন্নতি আমাদের ক্রীড়াঙ্গনে ঘটেনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন