অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের চাপে বিপর্যস্ত ৬৯ শতাংশ পরিবার

অথর
কুষ্টিয়া অনুসন্ধান নিউজ ডেক্স :   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :29 October 2026, 5:13 PM | নিউজটি পড়া হয়েছে : 1 বার
অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের চাপে বিপর্যস্ত ৬৯ শতাংশ পরিবার

বিদ্যুৎ সুবিধা দেশের প্রান্তিক মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তবে অস্বাভাবিক বিল এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকাকে বড় সমস্যা হিসেবে দেখছেন গ্রাহকেরা।

কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন ও ঝিনাইদহের শৈলকুপা পৌরসভার ৮৯ শতাংশ পরিবার বলেছে, বিদ্যুৎ ব্যবহারে তাদের জীবনমানের উন্নতি হয়েছে।

অন্যদিকে, ৬৯ শতাংশ পরিবার আয় বাড়ার তুলনায় বিদ্যুৎ বিলের বাড়তি চাপ নিয়ে অসন্তোষ জানিয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতাকে খারাপ বা খুব খারাপ বলেছে ৫৫ শতাংশ পরিবার।

গতকাল ২৮শে অক্টোবর. বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত এক গণসংলাপে সমীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়।

রাজশাহীর ৩৩৪টি ও শৈলকুপার ২২২টিসহ মোট ৫৫৬টি পরিবারের ওপর সমীক্ষাটি চালানো হয়। এর ফলাফলে দেখা যায়, গত ১০ বছরে প্রান্তিক বা লাইফলাইন গ্রাহকদের বিদ্যুৎ ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

উত্তরদাতাদের ৮৫ শতাংশের ব্যবহার বেড়েছে; পাশাপাশি ৭৭ শতাংশ পরিবারের বাসায় বিভিন্ন ধরনের বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির ব্যবহারও বৃদ্ধি পেয়েছে। ফ্রিজ ব্যবহারের হার ১০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪০ শতাংশ হয়েছে, আর টেলিভিশন ব্যবহারের হার ৩৪ শতাংশ থেকে পৌঁছেছে ৪৮ শতাংশে।

এ ছাড়া ৭৬ শতাংশ পরিবার জানিয়েছে, বিদ্যুতের কারণে শিশুদের পড়াশোনার পরিবেশ উন্নত হয়েছে। রাতে নিরাপত্তাবোধ বেড়েছে বলে জানিয়েছে ৯৭ শতাংশ পরিবার।

সমীক্ষায় সরকারি ৩১টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫২.৫০ মেগাওয়াট-পিক, ১৫০টি কলেজে ৫১.১২ মেগাওয়াট-পিক, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনে ২৪.৬০ মেগাওয়াট-পিক এবং শৈলকুপা পৌরসভায় ৪.০৬ মেগাওয়াট-পিক ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা চিহ্নিত করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে সম্ভাব্য উৎপাদনক্ষমতা ১৩২.২৮ মেগাওয়াট-পিক। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে এই সম্ভাবনা কাজে লাগানো গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়বে এবং কর্মসংস্থানও তৈরি হবে বলে জানানো হয়।

মূল প্রবন্ধে ক্যাব পরিবারভিত্তিক বিদ্যুৎ ব্যবহারের তথ্য বিশ্লেষণ করে সরকারি অতিরিক্ত ব্যয় কমানোর পাশাপাশি দরিদ্র পরিবার শনাক্ত করার ১২ দফা কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে।

সংগঠনটির দাবি, প্রস্তাবিত পদ্ধতি কার্যকর হলে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ২ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের ২১৬ কোটি টাকার পৃথক প্রকল্প ব্যয় সাশ্রয় করা সম্ভব।

তবে আলোচকেরা এ পদ্ধতি প্রয়োগে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

তাঁদের মতে, দুর্গম ও চরাঞ্চলের বহু মানুষ এখনো বিদ্যুৎ সুবিধা পান না। আবার অনেক দরিদ্র পরিবার একাধিক পরিবার মিলে একটি মিটার ব্যবহার করে। তাই শুধু বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ দেখে দারিদ্র্য নির্ধারণ করলে ভুল সিদ্ধান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বিদ্যুৎ খাতে বিগত সরকারের দায়মুক্তি আইনের কঠোর সমালোচনা করেন।

তিনি প্রতিটি খাতে জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি বিকল্প জ্বালানির উৎস শক্তিশালী করা এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর গুরুত্ব দেন।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে কার্যকর সরকারি নীতি ও প্রণোদনার দাবি জানান।

স্ট্যামফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষক শিহাব উদ্দিন সৌরবিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দক্ষ জনবল গড়ে তোলার ওপর জোর দেন।

গণসংলাপ শেষে ক্যাব লাইফলাইন গ্রাহকদের সহায়তা পুনর্মূল্যায়ন, বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতা বাড়ানো এবং ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের বিস্তার ঘটানো—এই তিনটি প্রধান সুপারিশ সরকারের কাছে তুলে দেয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনটির জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন