খুলনা অঞ্চলে চুইঝালের শতকোটি টাকার বাণিজ্য
খুলনার বড় বাজারের মসলাপট্টিতে ঢুকলেই নাকে আসে চুইঝালের ঝাঁজালো ঘ্রাণ। পানের নিকটাত্মীয় এই উদ্ভিদটি মরিচ আসার আগে উপমহাদেশের রান্নায় ঝাল হিসেবে ব্যবহৃত হতো। কালের বিবর্তনে এটি বৃহত্তর খুলনা ও যশোর অঞ্চলের বসতবাড়ির আঙিনায় টিকে থাকলেও বর্তমানে এর বাণিজ্যিক প্রসার ঘটেছে।
বিজ্ঞাপন
খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চুইঝালের উৎপাদন ৬০০ টনের বেশি। গত ছয় বছরে এর উৎপাদন বেড়েছে প্রায় আড়াই গুণ। কেজিপ্রতি ১ হাজার ২০০ টাকা গড় দাম ধরলে বর্তমান বাজারের আকার ৭০ কোটি টাকার বেশি, তবে স্থানীয়দের মতে এই বাজারের আকার প্রায় শতকোটি টাকা।
বড় বাজারের অন্তত ১৫টি দোকানে প্রতিদিন এক হাজার কেজির বেশি চুইঝাল বিক্রি হয়, যার মূল্য ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা। চুই বিক্রেতা অমল বিশ্বাস জানান, তিন বছর আগে ৮০০ টাকা কেজিতে কেনা চুই এখন ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। তবে ভালো মানের শিকড় ১ হাজার ৮০০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হয়। প্রবীণ ক্রেতা অবনীন্দ্রনাথ কুমার জানান, আশির দশকে প্রতি কেজি চুই মাত্র ২ টাকায় পাওয়া যেত।
চুইঝাল এখন আম, কাঁঠাল বা মেহগনি গাছের সাথি ফসল হিসেবে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে। খুলনার নার্সারিগুলোতে চারা বিক্রির সংখ্যা ২-৩ হাজার থেকে বেড়ে ৫০-৬০ হাজারে দাঁড়িয়েছে। এখন খুলনা ছাড়াও কুড়িগ্রাম, ফরিদপুর ও ঝিনাইদহে চুইঝালের আবাদ হচ্ছে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০ ও ২০২২ সালের গবেষণায় চুইয়ের নির্যাসে জীবাণুনাশক, ব্যথানাশক, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও ক্যানসার-কোষ প্রতিরোধী উপাদানের প্রমাণ মিলেছে। ভোজনরসিকদের কাছে চুই দিয়ে রান্না করা মাংসের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বড় বাজারসংলগ্ন ‘হোটেল জাবেদ’-এ প্রতিদিন দুপুরে দেড় থেকে দুই মণ চুই-মাংস বিক্রি হয়।
বিজ্ঞাপন
২০২৪ সালে শিল্প মন্ত্রণালয় সম্ভাব্য ১৫১টি জিআই পণ্যের যে তালিকা করেছে, তাতে খুলনার চুইঝাল স্থান পেয়েছে। লোকজ চিকিৎসায় গ্যাস্ট্রিক, কোষ্ঠকাঠিন্য ও হজমের সমস্যায় এটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।























