৫ আগস্টের পর থেকে মন্দিরের জমি দখল: জামায়াত আমিরকে বেদম পিটুনি, অণ্ডকোষ জখম

অথর
কুষ্টিয়া অনুসন্ধান নিউজ ডেক্স :   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :8 November 2026, 7:59 PM | নিউজটি পড়া হয়েছে : 3 বার
৫ আগস্টের পর থেকে মন্দিরের জমি দখল: জামায়াত আমিরকে বেদম পিটুনি, অণ্ডকোষ জখম

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার সমুদয়কাঠীতে মন্দিরের জমি দখলের পর ধানচাষ করার অভিযোগে মো. শফিকুল ইসলাম নামের জামায়াতে ইসলামীর আমিরকে পিটিয়ে জখমের অভিযোগ উঠেছে। এসময় তার অণ্ডকোষ জখম হয়েছে বলে জানান পরিবারের সদস্যরা।

৭ই নভেম্বর, শনিবার দুপুরে উপজেলার সমুদয়কাঠী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।

আহত শফিকুল ইসলাম সমুদয়কাঠী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শফিকুল ইসলামের বলেন, শনিবার দুপুরে ইমরান খন্দকারের নেতৃত্বে মনোজ বিশ্বাস, জাকির খান, সুমন খান, সুমন আইচসহ ১২-১৪ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে আমার বসতবাড়িতে প্রবেশ করে। এ সময় মন্দির ভাঙা ও মন্দিরের জমি দখলের অভিযোগ তুলে তারা হামলা চালায়।

তিনি আরও বলেন, আমার ভাই সিদ্দিকুর রহমান এগিয়ে এলে তাকেও লাঠি দিয়ে পেটানো হয়। সমুদয়কাঠী ইউনিয়নের টুটুল আইচের নির্দেশনায় এ হামলা চালানো হয়েছে।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন টুটুল আইচ বলেন, শফিকুল আমাদের শীতলা মন্দিরের কাজে ব্যবহৃত একটি জমি ৫ই আগস্টের পর দখলে নিয়ে সেখানে ধানচাষ করছেন। এ জমি নিয়ে কয়েকজনের সঙ্গে তার পূর্ববিরোধ রয়েছে। হামলার বিষয়ে আমি অবগত ছিলাম না। আমি দুপুরে ইউনিয়নের দুর্গাকাঠীতে একটি কাজে ব্যস্ত ছিলাম।

পড়ুন: পিরোজপুরে ৫ আগস্টের পর থেকে মন্দিরের জমি দখল করে ধান চাষ জামায়াত আমিরের

তিনি আরও বলেন, ইমরান খন্দকার ও শফিকুলের মধ্যে একটি সুপারি বাগান নিয়ে বিরোধের কথা শুনেছি। ওই ঘটনায় তাদের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে বলে জেনেছি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইমরান খন্দকার বলেন, আমি সমুদয়কাঠী ইউনিয়নের একটি পুকুরসহ ২৭ শতাংশ জমির সুপারি বাগান তিন বছরের জন্য লিজ নিয়েছি। শনিবার বাগান থেকে সুপারি পাড়তে গেলে শফিকুল, তার ভাই সিদ্দিকসহ কয়েকজন এসে সুপারি নিয়ে যান। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা আমাদের ওপর হামলা চালায়। পরে আত্মরক্ষার্থে আমরাও দু-চারটি কিল-ঘুষি দিয়েছি।

নেছারাবাদ উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুর রশিদ বলেন, শফিকুল সমুদয়কাঠী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের আমির। শনিবার দুপুরে ইমরান, মনোজ, জাকিরসহ কয়েকজন শফিকুলের বাড়িতে প্রবেশ করে মন্দিরের জমি দখলের অভিযোগ তুলে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছেন।

নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, জমিসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা শুনেছি। একটি পক্ষ থানায় এসেছিল। তাদের আগে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

পিরোজপুরে ৫ আগস্টের পর থেকে মন্দিরের জমি দখল করে ধান চাষ জামায়াত আমিরের

মন্দিরের জমি দখল করে ধানচাষ করেন জামায়াত আমির শফিকুল

জমি সংক্রান্ত বিবাদ

এলাকার লোকজন জানান, আদালতে জমি নিয়ে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের পর জমিটি দখলে নিয়ে চাষাবাদ শুরু করেন শফিকুল। এতে বন্ধ হয়ে পড়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পরিবেশ। মন্দিরের জমি উদ্ধার করে সেখানে পুনরায় পূজা-অর্চনা চালুর দাবি জানিয়েছেন জমিদাতা পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নেছারাবাদ উপজেলার সমুদয়কাঠী ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া সার্বজনীন শীতলা মন্দিরের নামে ৪২ শতক জমি রয়েছে। জমিটির দাগ নম্বর ৯৫২, খতিয়ান নম্বর ১৩০। কয়েক দশক ধরে এই জমিতে শীতলা পূজাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান হয়ে আসছিল। সর্বশেষ বিএস রেকর্ডেও জমিটি আটজন শরিকের নামে রেকর্ডভুক্ত রয়েছে বলে জানান ভুক্তভোগীরা।

তাদের অভিযোগ, আট শরিকের একজনের অংশ নিয়ে করা অনিবন্ধিত বায়না চুক্তির ভিত্তিতে ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের পর জমিটি দখলে নেন শফিকুল ইসলাম হাওলাদার। সংশ্লিষ্ট ওই শরিক বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। এরপর থেকে জমিতে ধান চাষ করছেন তিনি। জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

জমির মালিক ননী লাল বিশ্বাসের ছেলে মনোজ বিশ্বাস বলেন, সর্বশেষ হালনাগাদ বিএস রেকর্ড অনুযায়ী জমিটি আট শরিকের নামে রেকর্ড করা হয়েছে। শফিকুল ইসলাম হাওলাদার একটি অনিবন্ধিত বায়না চুক্তি দেখিয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মামলা চলমান থাকা অবস্থায় তিনি জমিটি দখলে নিয়ে ধান চাষ করছেন।

তার ভাষ্য, তাদের পূর্বপুরুষেরা কয়েক দশক ধরে ওই জমিতে শীতলা পূজা করে আসছেন। জমিটি উদ্ধার করে আগের মতো পূজা-অর্চনা চালুর দাবি জানান তিনি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য সুমন আইচ বলেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি ওই জমিতে শীতলা পূজা হতে দেখে আসছেন।

তবে ৫ই আগস্টের পর স্থানীয় জামায়াত নেতা শফিকুল ইসলাম হাওলাদারের বিরুদ্ধে জমিটি দখলের অভিযোগ ওঠে। প্রকৃত কাগজপত্র নিয়ে আলোচনায় বসার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি তা এড়িয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন সুমন আইচ।

তার মতে, হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় কাজে ব্যবহৃত জমি নিয়ে এমন পরিস্থিতি কাম্য নয়।

সমুদয়কাঠী ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. আবু হানিফ বলেন, শফিকুল ইসলাম হাওলাদার ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে জমিসংক্রান্ত বিষয়টি তার ব্যক্তিগত। ক্ষমতার অপব্যবহার করে কেউ জমি দখল করলে তার দায় দল নেবে না।

জামায়াতে ইসলামী কখনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের পিরোজপুর জেলা শাখার সদস্যসচিব প্রলয় মন্ডল বলেন, সমুদয়কাঠীতে জমি দখল, ধর্মীয় স্থাপনা ভাঙচুর ও সংখ্যালঘুদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ পেয়ে তারা সরেজমিনে গিয়েছিলেন। সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হলেও অভিযুক্ত শফিকুল ইসলাম হাওলাদার তাতে সাড়া দেননি বলে জানান তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন