‘আউটসোর্সিং’ করে নরসিংদী থেকে ‘ফ্রিল্যান্সার’ ভাড়ায় এনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রতিপক্ষের ওপর হামলা, গুলিবিদ্ধসহ আহত ২০
বিরোধের জেরে দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায়। এতে দুজন গুলিবিদ্ধসহ কমপক্ষে ১৫-২০ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার রাতে উপজেলার পশ্চিম ইউনিয়নের চরলাপাং গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধ দুজন হলেন ফুল মিয়া (৬০) ও উম্মে হানি (২২)। আহত ফুল মিয়া চরলাপাং গ্রামের বাসিন্দা। উম্মে হানি একই গ্রামের সুমন মিয়ার স্ত্রী। তাদের উদ্ধার করে প্রথম নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চরলাপাং গ্রামে একটি সড়ক নির্মাণ কাজের সময় একই গ্রামের অহিদ মিয়া বাধা দেন। এ নিয়ে গ্রামবাসীর সঙ্গে তার বিরোধ চলে আসছিল। সম্প্রতি সড়কটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে গ্রামের মুসলেম মিয়া কৃষকদের জমিতে ভাড়ায় চাষ দেওয়ার জন্য একটি ট্রাক্টর কেনেন। এতে বিরোধ আরও তীব্র হয়। ট্রাক্টর ভাড়া ব্যবসায় একক আধিপত্য নষ্ট হওয়ার শঙ্কায় মুসলেম মিয়ার ওপর অহিদ মিয়া ও তার ভাই উবায়দুল মিয়া ক্ষুব্ধ হন। এ নিয়ে কয়েকদিন ধরে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল।
এর জের ধরে শনিবার রাতে অহিদ মিয়া মাধ্যমে নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মির্জারচর গ্রাম থেকে ভাড়ায় লোকজনকে আনেন। অহিদ মিয়ার নেতৃত্বে ওই লোকজন মুসলেম মিয়ার লোকজনের ওপর হামলা চালান। এতে উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের সময় গুলি চালালে মুসলেম মিয়ার পক্ষের ফুল মিয়া ও উম্মে হানি নামের দুজন গুলিবিদ্ধ হন। এ ঘটনায় আরও ১৫-২০ জন আহত হন।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, অহিদ মিয়ার সাথে এলাকার লোকজনের বিরোধ থাকায় তিনি আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে রায়পুরা থেকে ‘ফ্রিল্যান্সার’ লোকদের ভাড়ায় নিয়ে আসেন, যারা টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন জায়গায় মারামারি করতে যায়। হাতবোমা ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে। স্থানীয়ভাবে কেউ তাদের চেনে না বলে মারামারির পর তারা নিরাপদে সটকে পড়ে, ফলে তাদের আর হদিস পাওয়া যায় না।
নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার রোকসানা খাতুন বলেন, শনিবার রাতে ডান হাতে গুলিবিদ্ধ দুজন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। পরে তাদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদুল আলম চৌধুরী বলেন, দুইপক্ষের মধ্যে পূর্ব থেকে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। সম্প্রতি গ্রামের একটি রাস্তা নিয়ে বিরোধ আরও তীব্র হয়। একপক্ষ নরসিংদীর রায়পুরার মির্জারচর থেকে লোকজন ভাড়া এনে হামলা চালায়। সংঘর্ষে গোলাগুলির ঘটনায় দুজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।























