ইসলামী বক্তা ও জামায়াতের সাংসদ আমির হামজার নারীঘটিত অডিও-ভিডিও পাওয়ার দাবি রাশেদ খাঁনের

অথর
কুষ্টিয়া অনুসন্ধান নিউজ ডেক্স :   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :6 November 2026, 8:55 AM | নিউজটি পড়া হয়েছে : 6 বার
ইসলামী বক্তা ও জামায়াতের সাংসদ আমির হামজার নারীঘটিত অডিও-ভিডিও পাওয়ার দাবি রাশেদ খাঁনের

কুষ্টিয়া-৩ আসনের জামায়াত সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে নারীঘটিত কথোপকথনের অডিও ও ভিডিও থাকার দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী ও সাবেক ছাত্রনেতা রাশেদ খাঁন। এসব অডিও-ভিডিও ফ্যাক্ট চেকিং করে সত্যতা পেয়েছেন বলেও দাবি করেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাত ১১টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এ দাবি করেন রাশেদ খাঁন।

 

ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খাঁন লেখেন, ‘কুষ্টিয়া-৩ আসনের জামায়াত এমপি আমির হামজার নারী ঘটিত কিছু ভিডিও ও অডিও আমার কাছে এসেছে। আমি সেগুলো ফ্যাক্ট চেকিং করে তথ্যের সত্যতা পেয়েছি। নীচে আমির হামজার কথোপকথনের যৎসামান্য দেওয়া হলো। এছাড়া কমেন্ট বক্সে অডিও লিংক যুক্ত করা হয়েছে। দেখি জামায়াত এবার আমির হামজার বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা গ্রহণ করে…।’

পোস্টে রাশেদ খাঁন কথিত ওই অডিও কথোপকথনের একটি অংশও প্রকাশ করেন। সেখানে এক ব্যক্তিকে সংশ্লিষ্ট একটি ঘটনা নিয়ে অনুতপ্ত হওয়ার পাশাপাশি কয়েকজনের কাছে ক্ষমা চাওয়ার কথা বলতে শোনা যায় বলে দাবি করা হয়েছে।

প্রকাশিত কথোপকথনের অংশে ওই ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়—

‘একদম হুলুস্থুলুস করে ফেললো বিষয়টা, বিষয়টা একটু ঘুলিয়ে পাকিয়ে গেলো। আমি আপনাদেরকে এত ক্ষমা চাওয়া, মাফ চাওয়ার পরেও আপনারা বললেন যে কন্ট্রোলে আছে, কিছু হবে না আমার দ্বারা, আপনার কোনো ক্ষতি হবে না। এই যে এখন কি, কোন জায়গায় যেয়ে ঠেকবে ঠিক নাই।’

কথোপকথনের পরবর্তী অংশে ওই ব্যক্তিকে আরও বলতে শোনা যায়—

‘আপনাদের ওপর আমার কোনো রাগ ক্ষোভ, অভিমান, মানে কিছুই নেই। ওটুকু আমার শয়তানের ধোঁকায় হোক, নফসের জালে হোক, হয়ে যাওয়ার পরে আমি নিজেই অনুতপ্ত। তো অন্যায় করার পরে অনুতপ্ত হলে তারে মানুষ তো অন্তত মাফ করার কথা। আপনারা ইসলামি মাইন্ডের যদি মানুষ হন।’

একই কথোপকথনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিবারের কাছে গিয়ে ক্ষমা চাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে তিনি বলেন, সুযোগ পেলে সাইফুল স্যারকে সঙ্গে নিয়ে তাদের বাড়িতে যাবেন এবং প্রয়োজনে পরিবারের সদস্যদের হাত-পা ধরে ক্ষমা চাইবেন।

রাশেদ খাঁনের এই পোস্ট প্রকাশের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে একজন সংসদ সদস্য এবং ধর্মীয় বক্তা হিসেবে পরিচিত ব্যক্তির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ওঠায় জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান ও সাংগঠনিক পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

উল্লেখ্য, রাশেদ খাঁন তাঁর পোস্টে অডিও-ভিডিওর সত্যতা ফ্যাক্ট চেকিংয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার দাবি করলেও প্রকাশিত কথোপকথনের মূল উৎস, ধারণের সময় এবং সংশ্লিষ্ট অডিও-ভিডিওর স্বাধীন ও নিরপেক্ষ যাচাই এখনো প্রকাশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এ বিষয়ে আমির হামজা কিংবা জামায়াতে ইসলামীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন।

সংবাদটি শেয়ার করুন