ছয় গোলের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে সিটিকে হারালো পিএসজি
ইত্তিহাদ স্টেডিয়ামে ঘরের মাঠে সমর্থকদের প্রত্যাশা আর গ্যালারির গর্জনকে স্তব্ধ করে দিয়ে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দারুণ এক জয় তুলে নিল প্যারিস সেন্ট-জার্মেই (পিএসজি)। বুধবার রাতে রোমাঞ্চকর এক লড়াইয়ে ম্যানচেস্টার সিটিকে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়েছে ফরাসি জায়ান্টরা।
প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর ঘরের মাঠে এটাই ছিল ম্যানচেস্টার সিটির প্রথম ম্যাচ। তবে মাঠের ফুটবলে প্রথমার্ধেই সিটিকে একপ্রকার ধসিয়ে দেয় পিএসজি। প্রথম ৩৫ মিনিটের মধ্যেই তিন গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেয় প্যারিসের দলটি।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজায় পিএসজি। গতির ঝড়ে সিটির রক্ষণকে ব্যস্ত রেখে ম্যাচের প্রথম দিকেই এগিয়ে যায় তারা। দেসিরে দুয়ের দূরপাল্লার চমৎকার শটে প্রথম গোল পায় সফরকারীরা। এর দুই মিনিট পর দুয়ে ও উসমান দেম্বেলের দুর্দান্ত সমন্বয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন দেম্বেলে। ৩৫ মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শটে পিএসজির হয়ে তৃতীয় গোলটি করেন ভিতিনহা।
তিন গোলে পিছিয়ে পড়ে বিরতির পর ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে ম্যান সিটি। দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান কমান পেপ গুয়ার্দিওলার সাবেক শিষ্যরা। ইলিম্যান এনদিয়ায়ের ক্রস থেকে হেডে সিটির হয়ে প্রথম গোলটি করেন আর্লিং হালান্ড।
তবে সিটির ঘুরে দাঁড়ানোর স্বস্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেয়নি পিএসজি। মাঝমাঠ থেকে তৈরি হওয়া আক্রমণে মানিয়েস আকলিউশের শটে আবার তিন গোলের ব্যবধান পুনরুদ্ধার করে সফরকারীরা।
শেষ দিকে গোল ব্যবধান কমাতে মরিয়া হয়ে ওঠে সিটি। ম্যাচের শেষ ভাগে এসে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার হালান্ড। তবে সেটি সিটির পরাজয়ের ব্যবধান কমানো ছাড়া আর কোনো কাজে আসেনি। শেষ দিকে ফেরান তোরেসের নেওয়া পেনাল্টি শট ঠেকিয়ে সিটিকে আরও এক গোল থেকে বঞ্চিত করেন পিএসজি গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুমা।
এই জয়ের মাধ্যমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজেদের শক্ত অবস্থানের কথা জানান দিল টানা দুবারের ইউরোপ সেরা পিএসজি। অন্যদিকে মাঠের বাইরের আর্থিক কেলেঙ্কারির বিতর্কের মাঝে ঘরের মাঠে এই পরাজয় ম্যানচেস্টার সিটির জন্য বড় এক ধাক্কা হয়ে রইল।























