তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী সেচ্ছাসেবক দলের নেতা বগাকে ধরতে অভিযানে বাধা ডা. শাহাদাতের

অথর
কুষ্টিয়া অনুসন্ধান নিউজ ডেক্স :   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :7 October 2026, 11:57 PM | নিউজটি পড়া হয়েছে : 2 বার
তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী সেচ্ছাসেবক দলের নেতা বগাকে ধরতে অভিযানে বাধা ডা. শাহাদাতের

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) টাইগারপাসস্থ নগর ভবনে চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগাকে ধরতে অভিযান চালায় খুলশী থানা-পুলিশ।

তবে অভিযান চলাকালে বিএনপি নেতা শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে পুলিশের বাগবিতণ্ডা হয়। পরবর্তীতে তার পরোক্ষ হস্তক্ষেপে কোনো আসামি না ধরেই পুলিশকে স্থান ত্যাগ করতে হয় বলে অভিযোগ। অন্যদিকে এই হট্টগোলের সুযোগে অপরাধী বগা নগর ভবন থেকে সটকে পড়তে সক্ষম হন বলে জানিয়েছে সূত্র।

গতকাল রাত ৯টার দিকে নগরের টাইগারপাস এলাকায় অবস্থিত চসিক কার্যালয়ে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

জানা যায়, নগর ভবনে তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী বগার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে খুলশী থানার একটি টিম সেখানে অভিযানে গেলে ‘মেয়র’ পদে দায়িত্বপালনকারী ডা. শাহাদাতের বাধার মুখে পড়ে পুলিশ। এসময় শাহাদাতের সঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তাদের উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা হয়। তার বাধার মুখে অবশেষে অভিযান বন্ধ রেখেই ফিরে যেতে বাধ্য হয় পুলিশ সদস্যরা।

এ বিষয়ে আজ ৭ই অক্টোবর, বুধবার বিকেলে শাহাদাত হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ওয়াকিল সন্ত্রাস নয়। সে দীর্ঘ ১৬ থেকে ১৭ বছর বিএনপির আন্দোলন সংগ্রামে সাথে ছিলো এবং সে একজন জুলাই যোদ্ধা।

এ বিষয়ে জানতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন দায়িত্বশীলদের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করতে চাইলেও আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে খুলশী থানার একাধিক কর্মকর্তা চসিক কার্যালয়ে অভিযান চালানো এবং সেখান থেকে শূন্য হাতে ফিরে আসার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার অভিযানে বিএনপি নেতা শাহাদাতের বাধার ঘটনায় তুমুল সমালোচনা চলছে নগরজুড়ে।

অতীতেও কয়েকবার অস্ত্রসহ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন বগা

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম নগরে বর্তমানে ২০০ কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে বলে পুলিশের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে। প্রতিটি দলে রয়েছেন ৫ থেকে ১৫ জন। নগরজুড়ে এসব গ্যাংয়ের সদস্যসংখ্যা অন্তত ১ হাজার ৪০০। পুলিশ বলছে, কিশোর গ্যাংয়ের পৃষ্ঠপোষকতা বা প্রশ্রয়ে ৬৪ ‘বড় ভাই’ আছেন।

স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা বগার অধীনেও রয়েছে কয়েক শ কিশোর গ্যাং সন্ত্রাসী। নগরের ওয়্যারলেস কলোনি ও সংলগ্ন ফুটপাতের দোকানগুলো থেকে নিয়মিত চাঁদা তোলা হয়। স্বেচ্ছাসেবক দলের সন্ত্রাসীরা প্রতি রাতে তোলে এসব চাঁদা। এই চাঁদা নিয়ে বিরোধের জেরে গত ২৯শে সেপ্টেম্বর খুন হয় এক সবজি বিক্রেতার পুত্র।

সংবাদটি শেয়ার করুন