দারিদ্র্যসীমার ওপরে প্রায় সাড়ে ৬ কোটি মানুষ: আয় কম, নিত্যপণ্যের দাম বেশি, খাদ্য-চিকিৎসা-শিক্ষায় কাটছাঁট

অথর
কুষ্টিয়া অনুসন্ধান নিউজ ডেক্স :   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :18 October 2026, 4:47 PM | নিউজটি পড়া হয়েছে : 9 বার
দারিদ্র্যসীমার ওপরে প্রায় সাড়ে ৬ কোটি মানুষ: আয় কম, নিত্যপণ্যের দাম বেশি, খাদ্য-চিকিৎসা-শিক্ষায় কাটছাঁট

দারিদ্র্যসীমার সামান্য ওপরে দিন কাটাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রায় ৬ কোটি ২০ লাখ মানুষ। অর্থনৈতিক সংকট, নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো যেকোনো ধাক্কা তাঁদের আবার দারিদ্র্যসীমার নিচে ঠেলে দিতে পারে।

উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও ধীর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চাপে এরই মধ্যে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জীবন কঠিন হয়ে উঠেছে। আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলাতে গিয়ে অনেক পরিবারকে খাবার, চিকিৎসা ও শিক্ষার মতো মৌলিক খাতে খরচ কমাতে হচ্ছে।

বিশ্বব্যাংকের অক্টোবর ২০২৬-এর দারিদ্র্য ও সমতা পরিস্থিতি বিষয়ক প্রতিবেদন বলছে, দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক শ্লথগতি, দুর্বল শ্রমবাজার এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতি বাংলাদেশের পরিবারগুলোর ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।

সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, গত অর্থবছরে আন্তর্জাতিক দারিদ্র্যসীমার নিচে নতুন করে প্রায় ২১ লাখ মানুষ যুক্ত হয়েছে।

এমন প্রেক্ষাপটে শনিবার আন্তর্জাতিক দারিদ্র্য বিমোচন দিবস পালিত হয়ে গেল। এ বছরের বিশেষ প্রতিপাদ্য— ‘সবার জন্য নিরাপদ আবাসস্থল’।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষকে দারিদ্র্য থেকে বের করে আনার পাশাপাশি অর্জিত জীবনমান ধরে রাখা এবং সংকট মোকাবেলার সামর্থ্য বাড়ানোও প্রয়োজন।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে জাতীয় উচ্চতর দারিদ্র্যসীমার হিসাবে দেশে দারিদ্র্যের হার ৩৭.১ শতাংশ থেকে কমে ১৮.৭ শতাংশে দাঁড়ায়।

একই সময়ে চরম দারিদ্র্যের হার ১২.২ শতাংশ থেকে নেমে আসে ৫.৬ শতাংশে। এই সময়ে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ মানুষ দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসেন। তবে ২০১৬ সালের পর দারিদ্র্য হ্রাসের গতি ধীর হয়ে যায়।

বিশ্বব্যাংকের প্রাক্কলনে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৩.৪ শতাংশ। ওই অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি দাঁড়ায় ৮.৭ শতাংশে।

জ্বালানির সংকট, ঋণের উচ্চ খরচ, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা এবং বিনিয়োগ ও রপ্তানিতে শ্লথগতি শিল্পকারখানার কার্যক্রম ও নতুন কর্মসংস্থান তৈরিতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জসীম উদ্দিন বলেন, আয় সীমিত আর নিত্যপণ্যের দাম বেশি হলে সংসারের খরচ চালাতে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোকে প্রতিনিয়ত হিসাব কষতে হয়। একসময় তারা খাবার, চিকিৎসা কিংবা শিক্ষার ব্যয় কমাতে বাধ্য হয়। বিশেষ করে পুষ্টিকর খাবারের বদলে কম দামের শর্করাজাতীয় খাবারের ওপর নির্ভরতা বাড়লে শিশু ও ঝুঁকিতে থাকা পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

জলবায়ু পরিবর্তনও দারিদ্র্যের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, নদীভাঙন, খরা ও লবণাক্ততার কারণে অনেক পরিবার ঘরবাড়ি, ফসল ও জীবিকা হারিয়ে নতুন সংকটে পড়ছে। এসব এলাকায় নিরাপদ আবাসনের পাশাপাশি সুপেয় পানি, স্যানিটেশন, চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করাও প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দারিদ্র্য কমাতে টেকসই কর্মসংস্থান ও ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে হবে। কৃষকের উৎপাদন খরচ কমানো এবং কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য দেওয়ার ব্যবস্থাও দরকার।

একই সঙ্গে দরিদ্র ও ঝুঁকিতে থাকা মানুষের জন্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি কার্যকর করা জরুরি। অসুস্থতা, কর্মহীনতা বা দুর্যোগের সময়ে দ্রুত সহায়তা পৌঁছানো গেলে দারিদ্র্যসীমার কাছাকাছি থাকা বিপুল জনগোষ্ঠীর আবার দরিদ্র হয়ে পড়ার আশঙ্কা কমানো সম্ভব।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন