পিরোজপুরে পুলিশ সদস্যের স্ত্রীকে গণধর্ষণের পর হত্যা, তাঁতীদল নেতা মানিক হাওলাদার গ্রেপ্তার

অথর
কুষ্টিয়া অনুসন্ধান নিউজ ডেক্স :   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :6 October 2026, 6:00 AM | নিউজটি পড়া হয়েছে : 2 বার
পিরোজপুরে পুলিশ সদস্যের স্ত্রীকে গণধর্ষণের পর হত্যা, তাঁতীদল নেতা মানিক হাওলাদার গ্রেপ্তার

পিরোজপুরের কাউখালীতে নিজ ঘরে ঢুকে এক অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যের স্ত্রীকে গণধর্ষণ ও পরিকল্পিতভাবে হত্যার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত পিরোজপুর জেলা জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের সাধারণ সম্পাদক মানিক হাওলাদারকে (৫০) গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

আজ সোমবার (৫ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে মাদারীপুর সদর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মানিককে গ্রেপ্তার করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-৮)।

গ্রেপ্তার মানিক পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার দক্ষিণ ভবানীপুর এলাকার বাসিন্দা।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরিশালের এসআরবি-৮-এর সহকারী পুলিশ সুপার ও মিডিয়া কর্মকর্তা ওয়ালিদ হাসান মিঠু।

এর আগে গতকাল রোববার সকালে কাউখালী উপজেলার শিয়ালকাঠি গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে হাত-পা বাঁধা ও নির্যাতনজনিত ক্ষতসহ জেসমিন (৫০) নামের ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে কাউখালী থানা পুলিশ।

তিনি মৃত আফজাল খানের বড় মেয়ে এবং অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য মরহুম কেরামত আলীর স্ত্রী। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে তিনি ছোট মেয়েকে নিয়ে এই বাড়িতে বসবাস করছিলেন। ঘটনার রাতে তিনি বাড়িতে একাই ছিলেন।

নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে স্বজনেরা ঘরের পেছনের দরজা খোলা এবং ভেতরের আলমারি ও ওয়ারড্রবের মালামাল এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান। পরে এক কক্ষে জেসমিনের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

নিহতের ভাই নাজির হোসেন দাবি করেন, মানিক হাওলাদারের কাছে তার বোনের প্রায় ছয় লাখ টাকা পাওনা ছিল। পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে দুজনের মধ্যে চরম বিরোধ চলছিল।

পরিবারের অভিযোগ, টাকা না দিতেই এবং ঘর থেকে মূল্যবান স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করতেই জেসমিনকে গণধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। নিহতের মেয়ে কাকন মনি তার মায়ের নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ঘটনার বিষয়ে পিরোজপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাইদুল ইসলাম কিসমত জানান, যেকোনো অপরাধের সুষ্ঠু বিচার তারা চান এবং মানিকের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে দল থেকে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন জানান, এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এ ঘটনার পেছনের মূল রহস্য উদঘাটন ও জড়িত অন্যান্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন