৬ কোটি টাকা মূল্যের খাস জমি দখল করে জামায়াত আমিরের বহুতল ভবন নির্মাণ
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে প্রায় ৬ কোটি টাকা মূল্যের সরকারি খাস জমি দখল করে তার ওপর বহুতল ভবন নির্মাণ করে ফেললেন ইউনিয়ন জামায়াত আমিরের বিরুদ্ধে। সরকারি জমিখেকো জামায়াত নেতার নাম মো. আবু তালেব হোসাইন।
ইতিমধ্যে রাষ্ট্রীয় আইনকানুনের তোয়াক্কা না করে তিন তলা ফাউন্ডেশন দিয়ে একতলার ছাদ ঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের এক সংবাদে এ তথ্য জানা গেছে।
জামায়াত নেতা আবু তালেব কুমারখালী উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের মৃত আফিল উদ্দীনের ছেলে এবং চরসাদিপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির। তিনি আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জামায়াতের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী।
জানা যায়, আবু তালেব উপজেলার চরসাদিপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর মৌজায় অবস্থিত সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত (খ-তফসিলভুক্ত) প্রায় ৬ কোটি টাকা মূল্যের জমি দখল করে নিয়মনীতি অমান্য করে পাকা তিনতলা ভবন নির্মাণ করছেন। ইতিমধ্যে একতলার ছাদ ঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন করেছেন তিনি।
এলাকাবাসী জানান, আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই চলতি বছরের মে মাস থেকে বাড়ির নির্মাণকাজ শুরু করেছেন স্থানীয় জামায়াত নেতা আবু তালেব।
জানা যায়, এই জমি নিয়ে একবার মামলা হয়েছিল, পরে জমিটি খাস বলে রায় দেয়া হয়। এরপর আফিল উদ্দীনের উত্তরসূরীরা সেই জমি দখল করে বাড়িঘর নির্মাণ করছেন।
স্থানীয় এক বাসিন্দা আনিসুর রহমান বলেন, ইনটা চরের ভেতরে সব জমি খাস। একটা জমিও খাস ছাড়া নেই। সব এক রেকর্ড বা দুই রেকর্ড।
কৃষক মোহাম্মদ হোসেন বলেন, জমিটি মূলত খাস। আমরা ছোটবেলা থেকে এমন দেখে আসছি। কিন্তু ওনি লোকজন নিয়ে এসে কাজ করা শুরু করেছে। অথচ খাস জমিতে বাড়ি করা অবৈধ।
ভূমি অফিসের তথ্যমতে, গোবিন্দপুর মৌজার ১ নম্বর খতিয়ানের আরএস ৬৪ নম্বর দাগে সরকারের খ তফসিলভুক্ত প্রায় ২ একর ৮২ শতাংশ জমি রয়েছে। যার বাজারমূল্য প্রায় ৬ কোটি টাকা।
সেই জমি নিজের দাবি করে ২০১৮ সালে প্রথম কুষ্টিয়ার কুমারখালি জজ আদালতে রেকর্ড সংশোধনীর মামলা করেন চরসাদিপুর ইউনিয়ন জামায়াত আমির আবু তালেব হোসাইন। মামলার নথি থেকে জানা যায়, বৈধ কাগজ না থাকায় ২০২৪ সালের ৫ই মে দেওয়ানি মামলা নম্বর ১৯৮/২০২৮ বিনা খরচায় খারিজ করে দেন সহকারী জজ মো. মেহেদী হাসান।
মামলা খারিজের পর ফের আপিল করেন ওই জামায়াত নেতা। আপিল নম্বর ১১৭/২৪। বর্তমানে মামলটি বিচারাধীন রয়েছে। কিন্তু এরইমধ্যে বাড়ির নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন আবু তালেব।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে আবু তালেব হোসাইন জমিটি নিজের পৈত্রিক সম্পত্তি দাবি করে বলেন, এটাতে আমার আরএস রেকর্ড হয়নি। আমার বিএস রেকর্ড আছে। এটা বিচারাধীন এখন। আরএস সংশোধনীর জন্য আমরা মামলা করেছি। মামলা চলতেছে।
মামলা চলমান অবস্থায় কোন এখতিয়ারে বাড়ির কাজ করছেন জমিতে, এমন প্রশ্নের উত্তরে তেড়ে আসেন জামায়াত নেতা।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতার জানিয়েছেন, খাস জমিতে বাড়ির নির্মাণের সুযোগ নেই। জায়গাটির মালিকানা ও আইনি অবস্থা সম্পর্কে প্রশাসন অবগত। জনবল সংকটের কারণে মাপের কাজ কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। শিগগিরই আনইগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।























