প্রধানমন্ত্রী পত্নী-কে বিতর্কমুক্ত রাখতে কনফারেন্সের বক্তা তালিকা থেকে বাদ দেয়া হলো ট্রান্স-জেন একটিভিস্ট হো চি -কে

অথর
কুষ্টিয়া অনুসন্ধান নিউজ ডেক্স :   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :4 October 2026, 9:46 AM | নিউজটি পড়া হয়েছে : 1 বার
প্রধানমন্ত্রী পত্নী-কে বিতর্কমুক্ত রাখতে কনফারেন্সের বক্তা তালিকা থেকে বাদ দেয়া হলো ট্রান্স-জেন একটিভিস্ট হো চি -কে

ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে ৩ থেকে ৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন (বিওবিসি) ২০২৬-এর বক্তা তালিকা থেকে ট্রান্সজেন্ডার অধিকারকর্মী হো চি মিন ইসলামের নাম সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আয়োজক প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর গভার্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আগে তাঁকে বক্তা হিসেবে ঘোষণা দিয়ে প্রচারণা চালায়। এখন সেই প্রচারণা তুলে নেওয়ায় সমালোচনা শুরু হয়েছে।

আমন্ত্রণ ও প্রচারণা
সম্মেলনের প্রচারণামূলক পোস্টারে হো চি মিন ইসলামকে “ট্রান্স ফেমিনিস্ট, জেন্ডার অ্যান্ড সেক্সুয়াল রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট, বাংলাদেশ” পরিচয়ে বক্তা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত থিংক ট্যাংক সিজিএসের সভাপতি ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক জিল্লুর রহমান হো চি’র লিঙ্গ পরিচয় জেনে বুঝে তাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।

যা ঘটেছে
অনলাইনে ডা. জুবাইদা রহমানের অংশগ্রহণ নিয়ে সমালোচনা ও প্রচারণা শুরু হয়। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ড জুবাইদা’র সমালোচনা করে প্রচারণা চালান যে, তিনি এমন একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন যেখানে একজন ট্রান্সজেন্ডার বক্তাও আছেন। এরপর সিজিএসের ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেইজ থেকে হো চি মিন ইসলামের নাম সরিয়ে নেওয়া হয়।

এনসিপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক সারজিস আলম তার ফেসবক পোষ্টে লেখেন,

বিএনপি এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান সংবিধানে ফিরিয়ে আনলো “আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস”। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিনী ডা. জুবাইদা রহমান সমকামী ট্রান্স অ্যাক্টিভেস্টদের সাথে মঞ্চ শেয়ার করছেন! এর চেয়ে লজ্জার, মুনাফেকি, দ্বিচারিতা আর প্রতারণার চরম দৃষ্টান্ত আর কি হতে পারে?
সিজিএসের পরিচালক সুবির দাস বলেন, “ডা. জুবাইদা রহমান ও হোচিমিন ইসলাম একই মঞ্চে অংশ নেবেন না। এ নিয়ে অনলাইনে যে প্রচারণা চলছে, তা সত্য নয়।”

অনুষ্ঠানসূচি অনুযায়ী, সংলাপের তৃতীয় দিন ৫ অক্টোবর ডা. জুবাইদা রহমান “The Measure of Progress: Dignity, Health and the Human Future” শীর্ষক অধিবেশনে অংশ নেবেন।

হো চি মিন ইসলামের প্রতিক্রিয়া
বক্তা তালিকা থেকে বাদ পড়ার বিষয়ে ফেসবুক পোস্টে হো চি মিন ইসলাম লেখেন:

“বাংলাদেশে ট্রান্সজেন্ডার মানুষদের যেভাবে সমাজের নানা ক্ষেত্র থেকে দূরে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, তা নির্মম। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র থেকে শুরু করে আলোচনার মঞ্চ—বারবার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে আমাদের জায়গা, মর্যাদা ও সুযোগ। এমনকি আমাদের নিরাপত্তার কথা বলে আমাদেরই কণ্ঠ রুদ্ধ করা হচ্ছে, অথচ যারা ভয়ভীতি দেখিয়ে আমাদের চুপ করাতে চায়, তাদের কোনো জবাবদিহি নেই।

শুধু নিজের পরিচয় নিয়ে বাঁচতে চাওয়ার জন্য আর কত বঞ্চনা সহ্য করতে হবে? আমাদেরও নিরাপত্তা, সমান অধিকার এবং সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে অংশগ্রহণের স্বাধীনতা চাই।

বাংলাদেশ আমাদেরও দেশ।”

মানবাধিকার ও লিঙ্গ-সমতা নিয়ে কাজ করা অনেকে এই সিদ্ধান্তকে রূপান্তরকামী জনগোষ্ঠীর প্রতি অবমাননাকর বলে মনে করছেন। তাঁদের বক্তব্য, সংলাপকে অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে আয়োজকরাই ভিন্ন ধারার ও ভিন্নমতের একজনকে আমন্ত্রণ জানিয়ে প্রচার করেছিলেন। সবকিছু জেনেবুঝেই তাঁরা অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা ও প্রচার করেছেন। তাই এখন তাঁকে বাদ দেওয়া আরও বেশি অপমানজনক।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন