বিরোধী ও সম্ভাব্য প্রতিপক্ষকে নির্বিচারে আটক করছে বিএনপি সরকার: এইচআরডাব্লিউ
বাংলাদেশে ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতায় আসার পর থেকে বিএনপি সরকার তাদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষকে নির্বিচারে আটক করছে বলে অভিযোগ করেছে নিউ ইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডাব্লিউ)। সংস্থাটি বলছে, এসব গণগ্রেপ্তার দেশে রাজনৈতিক দমন-পীড়নের চক্রটিই অব্যাহত রেখেছে।
সংস্থার এশিয়া পরিচালক ইলেইন পিয়ারসন বিবৃতিতে বলেন, বিএনপি মানবাধিকার ও আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল। কিন্তু নতুন সরকার সম্ভাব্য প্রতিপক্ষদের নির্বিচারে আটক করেছে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রস্তাবিত মানবাধিকার সুরক্ষাও পিছিয়ে দিয়েছে।
জাসদের সভায় ২৯০ জন আটক
সর্বশেষ ঘটনা হিসেবে এইচআরডাব্লিউ ২৬ সেপ্টেম্বর ঢাকায় একটি ক্ষুদ্র বামপন্থী দলের সভার ঘটনা উল্লেখ করেছে। সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ক্ষমতাসীন বিএনপির যুব সংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদলের সদস্যরা দাবি করেন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)-এর ওই সমাবেশ আসলে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের “গোপন বৈঠক”। এরপর পুলিশ জাসদের প্রায় ২৯০ সমর্থককে হেফাজতে নেয়। আদালত গ্রেপ্তারদের মধ্যে ২৭ জনকে রিমান্ডে পাঠায়, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল তারা “জয় বাংলা” স্লোগান দিয়েছেন, যা আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্কিত।
জাসদ ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরিক ছিল। ২০২৪ সালে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনে সরকারের পতন ঘটে, যাতে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে শত শত মানুষ নিহত হয়।
আওয়ামী লীগ কর্মীদের গ্রেপ্তার
এইচআরডাব্লিউ জানায়, আওয়ামী লীগ সমর্থকদের কথিত সমাবেশে পুলিশ বারবার অভিযান চালিয়েছে। একই দিন, ২৬ সেপ্টেম্বর, বরিশালে “নাশকতার পরিকল্পনা”র অভিযোগে ১২ জন আওয়ামী লীগ কর্মীকে আটক করা হয়। দুদিন পর ঢাকায় ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একই ধরনের অভিযোগে ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। দুটি ঘটনাতেই আটক ব্যক্তিরা বলেছেন, তাঁরা শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে জড়ো হয়েছিলেন।
সংস্থাটির মতে, নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে সরকার নিজের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষদের নির্বিচারে আটক করেছে, এবং বর্তমানে কয়েকশ আওয়ামী লীগ সদস্য বেশির ভাগই কোনো অভিযোগ ছাড়া কারাগারে আছে।
“অতীতের লঙ্ঘন যুক্তি হতে পারে না”
পিয়ারসন বলেন, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনে মতপ্রকাশ ও সংগঠনের স্বাধীনতা সবার জন্য নিশ্চিত। আওয়ামী লীগ আমলে এসব অধিকারের লঙ্ঘন ঘটেছিল বলে এখনকার লঙ্ঘনের পক্ষে যুক্তি দেওয়া যায় না। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন দমন-পীড়ন কোথায় গিয়ে ঠেকতে পারে, তার অনেক উদাহরণ রয়েছে।
এইচআরডাব্লিউ স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, শেখ হাসিনার কর্তৃত্ববাদী শাসনামলে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, নির্যাতন ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নির্বিচারে আটকসহ ব্যাপক ও গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছিল, এবং সে সময় বিএনপিও কঠোর দমন-পীড়নের শিকার হয়েছিল।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিবৃতিটি নিয়ে সরকার, পুলিশ বা বিএনপির কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।























