এশিয়ান গেমসে হারের পর লিটনকে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের ‘ব্যক্তিগত আক্রমণ’
এশিয়ান গেমসে সেমিফাইনালের পর ব্রোঞ্জ নির্ধারণী ম্যাচে শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় সারির দলের কাছে হেরে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে। এমন ভরাডুবির পর কাঠগড়ায় অধিনায়ক লিটন দাস ও পুরো দল। তবে ম্যাচ শেষে আয়োজিত অফিশিয়াল সংবাদ সম্মেলনে মাঠের পারফরম্যান্স আলোচনার চেয়ে উপস্থিত বাংলাদেশি সাংবাদিকদের ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অনভিপ্রেত বাকবিতণ্ডাই মূখ্য হয়ে ওঠে, যা নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।
ম্যাচ শেষে হারের ব্যাখ্যা জানতে চাওয়া হলে লিটন সোজাসুজি হারের দায় স্বীকার করেন এবং প্রতিপক্ষের ব্যাটার থারিন্দু রত্নায়েকেকে কৃতিত্ব দেন। নিজের বাজে ফর্ম (প্রথম ম্যাচে ২ ও ব্রোঞ্জ ম্যাচে ০ রান) নিয়েও অকপটে মেনে নেন, ‘আমার পারফরম্যান্স নট আপ টু দ্য মার্ক। আমি দুইটা ম্যাচেই ভালো পারফরম্যান্স করতে পারিনি।’
তবে উত্তাপ ছড়ায় এরপরের প্রশ্নগুলোতে। ক্রিকেট দলের ব্যর্থতার সঙ্গে দেশের অন্যান্য নিম্নবিত্ত বা সুবিধাবঞ্চিত খেলার অ্যাথলেটদের তুলনা টেনে উপস্থিত বাংলাদেশি সাংবাদিকদের কয়েকজন বেশ কিছু আপত্তিজনক ও খোঁচামূলক প্রশ্ন তোলেন। ক্রীড়াবিদদের পারফরম্যান্সের বাইরে গিয়ে ব্যক্তিগত জীবন এবং সামাজিক পরিস্থিতি টেনে এনে অনভিপ্রেত মন্তব্য করা হয়।
এমনকি এক বাংলাদেশি সংবাদকর্মী সরাসরি বলে বসেন—অন্যান্য খেলার অ্যাথলেটদের পায়ে জুতা বা ঘরে খাবার না থাকলেও তারা পদক আনছে, আর ক্রিকেটাররা সব সুবিধা পেয়েও ‘দেশকে ছি ছি করাচ্ছেন’। ক্রিকেট দলকে উদ্দেশ্য করে ‘বাংলাদেশ টিম কি এত সস্তা হয়ে গেছে আপনাদের কাছে?’ কিংবা ‘আপনারা অনুতপ্ত কি না?’—এরকম আক্রমণাত্মক ও আবেগীয় কথা বলতে থাকেন কয়েকজন সাংবাদিক।
পেশাদার ক্রীড়া সাংবাদিকতার পরিপন্থী এমন আচরণে একপর্যায়ে চরম বিরক্ত হন লিটন দাস। উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে অধিনায়কের মন্তব্য প্রকাশের সুযোগ না দিয়ে তাঁর ওপর বারবার পদত্যাগের চাপ সৃষ্টি করা হলে, লিটন ক্ষোভ ও বিরক্তি মিশিয়ে বলে ওঠেন, ‘রিজাইন করে দিব? আচ্ছা এশিয়ান গেমস থেকে রিজাইন করলাম। নেক্সট কোয়েশ্চেন প্লিজ।’
টুর্নামেন্ট চলাকালে খেলোয়াড়দের হোটেল থেকে বাইরে যাওয়া ও খাবারের অভ্যাসের বিষয়ে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের একাংশের তোপের জবাবে বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন লিটন। তিনি জানান, আয়োজকদের অনুশীলনের পর্যাপ্ত সুবিধার ঘাটতি ছিল এবং সরবরাহ করা খাবারের মান অ্যাথলেটদের উপযোগী ছিল না। ফলে শরীর ও এনার্জির চাহিদা মোতেই ক্রিকেটারদের বাইরে গিয়ে খাবার খেতে হয়েছে।
টুর্নামেন্টে ব্যর্থতার পর দল ও অধিনায়কের গঠনমূলক সমালোচনা অত্যন্ত স্বাভাবিক। তবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে অফিশিয়াল প্রেস কনফারেন্সে উপস্থিত বাংলাদেশি সাংবাদিকদের পেশাদার প্রশ্ন এড়িয়ে সরাসরি ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অসৌজন্যমূলক আচরণের ঘটনাটি ক্রীড়ামহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।























