চুরির অভিযোগে মানসিক প্রতিবন্ধী নারীর গাছে বেঁধে মারধর, ভিডিও ভাইরাল

অথর
কুষ্টিয়া অনুসন্ধান নিউজ ডেক্স :   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :6 November 2026, 8:34 PM | নিউজটি পড়া হয়েছে : 1 বার
চুরির অভিযোগে মানসিক প্রতিবন্ধী নারীর গাছে বেঁধে মারধর, ভিডিও ভাইরাল

গাইবান্ধা সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের একটি গ্রামে ২ নভেম্বর চুরির অপবাদে মানসিক ভারসাম্যহীন এক বৃদ্ধা নারীকে গাছে বেঁধে পেটানো হয়। ঘটনাটি ১৩ সেকেন্ডের ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

বিজ্ঞাপন

ভিডিওতে দেখা যায়, নারীর দুই হাত ও দুই পা গাছের শাখার সঙ্গে বাঁধা, আর শার্ট ও লুঙ্গি পরা এক ব্যক্তি গাছের চিকন ডাল দিয়ে তার পেট চেপে মারছে। প্রতিবার আঘাতের পর তিনি ‘ও আল্লারে, ও আল্লারে’, ‘ও বাবা, ও মা রে’, ‘মোক ক্যা ডাঙ্গাস রে (আমারে মারছিস কেন)’ বলে চিৎকার করেন। পাশে থেকে শোনা যায়, ‘ওর পায়োত ভালো করি গেরন (শক্ত করে বাঁধা) দেও।’ আরেকজনের কণ্ঠে ‘ক্যামনে বানদোন দিলু…’ শোনায়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঐ নারীকে ছাগল ও সেচপাম্পের মোটর চুরির অভিযোগ আনা হয় এবং সেই অভিযোগের ভিত্তিতে গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে পেটানো হয়।

লক্ষ্মীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘কী চুরির অপবাদে ওই নারীকে পেটানো হয়েছে, তা জানা যায়নি। আমি বৃদ্ধাকে হাসপাতালে দেখতে গিয়েছিলাম’।

ঘটনার পর বাড়িতে প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার পরে, গতকাল বৃহস্পতিবার তাকে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং বর্তমানে ২২ নম্বর শয্যায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসিফ জানান, রোগীর শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং তিনি খাবার গ্রহণ করছেন, অবস্থায় উন্নতি হচ্ছে।

আজ শুক্রবার সকালে রোগী বলছেন, ‘হামরা কোনো দোস করি নাই, তাও ওমরা হামাক গাছোত বানিদি মারচে। গায়োত বিষ (ব্যথা) হয়া আচে’।

নির্যাতিত নারীর ছেলে গাইবান্ধা সদর থানায় মামলার বাদী হয়ে সাদা মিয়া (৩৫) সহ চারজনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন। এজাহারে উল্লেখ আছে, ওই নারী মানসিক রোগী এবং এলাকায় তাকে ‘পাগলী’ বলা হতো।

এজাহার অনুযায়ী, ২ নভেম্বর সকালে সাদা মিয়া কাজের কথা বলে নারীর বাড়িতে ডেকে নিয়ে গিয়ে তাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করেন; একই দিন দুপুরে গাছের কাছ থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।

বিজ্ঞাপন

মামলার বাদী ফোনে বলেন, ‘সাদা মিয়া ও তাঁর লোকজন অন্যায়ভাবে গাছে বেঁধে আমার মাকে মেরেছে। আমি এই ঘটনার বিচার চাই। অপরাধীদের ফাঁসি চাই’। গাইবান্ধা সদর থানার ওসি নাজমুল হুদা অভিযোগের স্বীকৃতি নিয়ে জানান, ঘটনাটি তদন্তাধীন এবং গ্রেপ্তারী অভিযান চালু রয়েছে।

সাদা মিয়ার whereabouts অনিশ্চিত; তার ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন, ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না

সংবাদটি শেয়ার করুন