নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মনপুরায় রাজনৈতিক প্রভাবে মা ইলিশ শিকারের মহোৎসব

অথর
কুষ্টিয়া অনুসন্ধান নিউজ ডেক্স :   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :24 October 2026, 5:38 AM | নিউজটি পড়া হয়েছে : 7 বার
নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মনপুরায় রাজনৈতিক প্রভাবে মা ইলিশ শিকারের মহোৎসব

দেশজুড়ে প্রজননক্ষম মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা চললেও ভোলার মনপুরা উপজেলার মেঘনা নদীতে তা পুরোপুরি ভেস্তে যেতে বসেছে। আইনের তোয়াক্কা না করে এবং স্থানীয় প্রভাবশালী ও প্রশাসনের অসাধু চক্রের সাথে ‘রফাদফা’ করে দিন-রাত অবাধে মা ইলিশ শিকার করছে অসাধু জেলেরা।

অন্যদিকে, স্থায়ী কর্মকর্তা না থাকা, তীব্র জনবল সংকট ও লজিস্টিক ঘাটতির কারণে অভিযান চালাতে গিয়ে কার্যত হিমশিম খাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন।

সরেজমিনে মনপুরার মেঘনা উপকূলীয় এলাকা ঘুরে দেখা যায়, দিন ও রাতে কোনো তফাৎ নেই; নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল নিয়ে প্রকাশ্যে নদীতে নেমে পড়ছে অসাধু জেলেরা। বিশেষ করে তালতলা, সূর্যমুখী, বেইজ্জা, জনতা, মাস্টারহাট, খাড়িরখাল, জংলারখাল, টেকেরঘাট, কলাতলী ও ঢালচর মৎস্য ঘাটের অসাধু জেলেরা নিয়মিত মা ইলিশ শিকার করছে।

সন্ধ্যা গড়ালেই এ তৎপরতা বহুগুণ বেড়ে যায়। নদী থেকে সংগৃহীত মা ইলিশ তীরের গোপন আস্তানা ও হাটে নিয়ে পাইকারদের কাছে অবাধে বিক্রি করা হচ্ছে।

স্থানীয় মৎস্যজীবী সমিতি ও সচেতন মহলের অভিযোগ, প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি ও স্থানীয় প্রশাসনের একাংশের ছত্রছায়ায় এ অপকর্ম চলছে।

ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী সমিতির সহসভাপতি আক্তার সিকদার অভিযোগ করে বলেন, “অসাধু জেলেরা স্থানীয় প্রভাবশালী ও প্রশাসনের সাথে অনৈতিক রফাদফা করে অবাধে মা ইলিশ শিকার করছে। নামকাওয়াস্তে ঢিলেঢালা অভিযান হওয়ায় অসাধু চক্রগুলো আরো পার পেয়ে যাচ্ছে।”

আইন মেনে চলা সাধারণ জেলেরা আশঙ্কা প্রকাশ করে জানান, সঠিক সময়ে মা ইলিশ রক্ষা করা না গেলে আগামী মৌসুমে ইলিশের উৎপাদন চরমভাবে ব্যাহত হবে। এতে কেবল জাতীয় সম্পদের ক্ষতি হবে না, বরং যারা বাধ্যগতভাবে আইন মেনে মাছ ধরা বন্ধ রেখেছেন, সেই প্রকৃত জেলেরাই মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বেন।

অভিযানের সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে উপজেলার চরম সংকটের চিত্র তুলে ধরেছেন দায়িত্বপ্রাপ্তরা। উপজেলা মৎস্য দপ্তর সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে মনপুরায় কোনো স্থায়ী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ইউএফও) নেই।

উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা কাজল রেখা এ বিষয়ে জানান, “আমাদের স্থায়ী কোনো মৎস্য কর্মকর্তা নেই। প্রয়োজনীয় জনবল ও লজিস্টিক সাপোর্টের চরম ঘাটতি রয়েছে। এই বিশেষ সময়ে নিয়মিত ও ব্যাপকভাবে নদীতে অভিযান চালানো আমাদের সীমিত সামর্থ্যে অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।”

অন্যদিকে, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) খান সালমান হাবিব জানান, “মৎস্য অফিস, পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে আমাদের টহল ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। লজিস্টিক স্বল্পতার কারণে হয়তো ব্যাপকভাবে অভিযান চালানো সম্ভব হচ্ছে না, তবে অসাধু জেলেদের অপতৎপরতা রুখতে আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইলিশের মূল প্রজনন মৌসুমে যদি এভাবে মা ইলিশ নিধন চলতে থাকে, তবে বঙ্গোপসাগর ও মেঘনা অববাহিকায় ইলিশের ভবিষ্যৎ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে। অসাধু সিন্ডিকেট ও রফাদফার সংস্কৃতি বন্ধ করে দ্রুত কোস্টগার্ড ও নৌপুলিশের কঠোর টহল জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় প্রকৃত মৎস্যজীবীরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন