ফ্যামিলি কার্ডের নামে ৯৮ হাজার টাকা লোপাট, আরও টাকা নিতে গেলে বিএনপি নেতার স্ত্রীকে ধোলাই
ছয় প্রান্তিক মানুষের কাছ থেকে সরকারি ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার আশ্বাসে প্রায় এক লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগে এক বিএনপি নেতার স্ত্রীকে আটক করে উত্তম-মধ্যম দেওয়ার পর পুলিশে সোপর্দ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
প্রায় দেড় মাস ধরে ‘আজ দেব, কাল দেব’ বলে তাদের ঘোরানোর পর নতুন করে টাকা দাবি করেন ওই নারী। এরপর বাকি টাকা দেওয়ার কথা বলে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে তাকে ডেকে এনে আটক করা হয়।
ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগীরা এসময় তাকে মাটিতে ফেলে কিলঘুষি মারেন বলে জানা যায়।
মঙ্গলবার বেলা একটার দিকে উপজেলার আঠারবাড়ী ইউনিয়নের রায়েরবাজারে কৃষি ব্যাংকের সামনে ঘটনাটি ঘটে।
আটক নারীর নাম নার্গিস আক্তার (৩৬)। তিনি মৃগালী গ্রামের বিএনপি নেতা খোকন আলীর স্ত্রী।
খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে প্রথমে রায়েরবাজার তদন্তকেন্দ্রে নিয়ে যায়। পরে বিকেলে তাকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে নেওয়া হয়। আইনি পদক্ষেপের জন্য সন্ধ্যায় নার্গিসকে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়।
ভুক্তভোগীরা সবাই পাশের নান্দাইল উপজেলার কামারগাঁও ইউনিয়নের দোরুয়া গ্রামের বাসিন্দা। তারা হলেন হোসনে আরা বেগম (৩২), রাবেয়া খাতুন (৫০), জোসনা খাতুন (৩০), আছিয়া খাতুন (৫৬), তন্নী আক্তার লিমা (৩৫) ও কনক মিয়া (৩৬)।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের ভাষ্য, আগে থেকে পরিচয় থাকায় বিএনপি নেতার স্ত্রী নার্গিস আক্তার তাদের বলেছিলেন, স্থানীয় প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে দ্রুত সরকারি ফ্যামিলি কার্ড করিয়ে দিতে পারবেন। তার কথায় আস্থা রেখে রাবেয়া খাতুন ১৮ হাজার টাকা দেন। অন্য পাঁচজন দেন ১৬ হাজার টাকা করে। সব মিলিয়ে নেওয়া হয় ৯৮ হাজার টাকা।
টাকা পাওয়ার পর থেকেই নানা অজুহাতে দেড় মাস ধরে তাদের অপেক্ষায় রাখেন নার্গিস।
রাবেয়া খাতুনের অভিযোগ, আঠারবাড়ী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মিজানুর রহমান আলমগীর এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হাবিবুর রহমানের মতো বিএনপির নেতাদের প্রভাব ব্যবহার করে কার্ড করিয়ে দেওয়ার কথা বলেছিলেন নার্গিস। কিন্তু কার্ড না পেয়ে ভুক্তভোগীরা অপেক্ষা করছিলেন।
এর মধ্যে সম্প্রতি নার্গিস আরও ৪ হাজার টাকা চান। এতে তাদের সন্দেহ হয়। পরে বাকি ৪ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলে মঙ্গলবার তাকে রায়েরবাজারে ডেকে পাঠানো হয়। সেখানে পৌঁছালে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান আলমগীরের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হাবিবুর রহমান জানান, গত সোমবার তিনি বিষয়টি জানতে পারেন। তাদের নাম ব্যবহার করে নার্গিস সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছেন বুঝতে পেরে ভুক্তভোগীদের মাধ্যমে টাকা দেওয়ার কথা বলে তাকে আঠারবাড়ীতে ডেকে আনা হয়। পরে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজ্জাদ রোমন বলেন, সরকারি ফ্যামিলি কার্ড পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে নার্গিস আক্তারকে আটক করা হয়েছে। তাকে বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে নিয়মিত প্রতারণা মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।























