সাজেকে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে: সশস্ত্র গোষ্ঠীর ভয়ে পরিস্থিতি থমথমে

অথর
কুষ্টিয়া অনুসন্ধান নিউজ ডেক্স :   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :2 November 2026, 5:53 PM | নিউজটি পড়া হয়েছে : 0 বার
সাজেকে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে: সশস্ত্র গোষ্ঠীর ভয়ে পরিস্থিতি থমথমে

রাঙামাটির জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেক সড়কে টানা ১০ দিনের অবরোধের পর স্থানীয়দের সুবিধার্থে একদিনের জন্য তা শিথিল করা হলেও খাগড়াছড়ির পরিবহন খাতের সকাল-সন্ধ্যা ধর্মঘটের কারণে সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়েছে।

অবরোধ শিথিলের সুযোগ পেয়েও খাগড়াছড়ির সঙ্গে সাজেকের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় বিপাকে পড়েছেন সর্বস্তরের জনগণ ও ব্যবসায়ীরা।

অন্যদিকে, সড়ক অচলাবস্থার মধ্যেই পাহাড়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সাজেক এলাকায় আঞ্চলিক দুই সশস্ত্র গোষ্ঠী জেএসএস ও ইউপিডিএফের মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।

গত ২২শে অক্টোবর থেকে টানা ১০ দিন সাজেক সড়কে অবরোধ কর্মসূচি পালন করে আসছিল ‘সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি’ ও ‘সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন’।

গত ৩০শে অক্টোবর রাতে এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠন দুটি জানায়, স্থানীয় জনগণের খাদ্য ও দৈনন্দিন মৌলিক চাহিদার কথা বিবেচনায় নিয়ে আজ রোববার (১ নভেম্বর) একদিনের জন্য অবরোধ শিথিল থাকবে। তবে সোমবার থেকে আগের মতোই অনির্দিষ্টকালের অবরোধ বহাল থাকবে।

তবে রোববার সকালে খাগড়াছড়ির পরিবহন খাতের মালিক ও শ্রমিকরা স্থায়ীভাবে সাজেক সড়ক খুলে দেওয়ার দাবিতে সকাল-সন্ধ্যা ধর্মঘটের ডাক দেন।

সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলা এ ধর্মঘটের কারণে খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা, মারিশ্যা, সাজেক ও লংগদু সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়কের সুপারী বাগান এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে গাছের গুঁড়ি ফেলে পিকেটিং করেন পরিবহন শ্রমিকরা।

খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা বাস স্টেশনের লাইনম্যান স্বপন চাকমা বলেন, “একদিন শিথিল না করে সড়কটি স্থায়ীভাবে চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার দাবিতেই পরিবহন সেক্টর এ ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেয়। সোমবার থেকে যানবাহন স্বাভাবিক চলবে।”

বাঘাইহাট-সাজেক স্টেশনের লাইনম্যান মো. জসিম এবং সাজেক ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বনবিহারী চাকমা নিশ্চিত করেছেন যে, পরিবহন ধর্মঘটের কারণে দিনভর কোনো যানবাহন সাজেকে ঢুকতে বা বের হতে পারেনি।

সড়ক অচলাবস্থার মাঝেই রোববার বিকেলে আবারও বন্দুকযুদ্ধে কেঁপে ওঠে সাজেক এলাকা।

শনিবার দুপুরে কলাবুনিয়া এলাকায় গোলাগুলির ঘটনার পর, রোববার বিকেল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত সাজেক ইউনিয়নের লাঙলমারা এলাকায় প্রসিত খীসার নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফ এবং সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পিসিজেএসএস (সন্তু)-এর মধ্যে থেমে থেমে ঘণ্টাব্যাপী এ বন্দুকযুদ্ধ চলে।

সাজেক থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পরিবহন ধর্মঘটের কারণে সকাল থেকেই সড়ক ছিল ফাঁকা। এর মধ্যে বিকেলে লাঙলমারা এলাকায় জেএসএস ও ইউপিডিএফের মধ্যে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলি হয়।

তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

পরপর দুই দিন গোলাগুলির ঘটনায় স্থানীয় অধিবাসীদের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভাইবোনছড়া এলাকার এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, আতঙ্কের কারণে মানুষজন অপ্রয়োজনে ঘর থেকে বের হচ্ছে না।

তবে গোলাগুলির ঘটনায় সম্পৃক্ততার কথা বরাবরের মতোই অস্বীকার করেছে আঞ্চলিক সংগঠন দুটি।

পিসিজেএসএস-এর কেন্দ্রীয় সহ-তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা জানান, তিনি গোলাগুলির বিষয়ে কিছু জানেন না এবং এতে জেএসএস জড়িত থাকার প্রশ্নই ওঠে না।

অন্যদিকে ইউপিডিএফ-এর মুখপাত্র অংগ্য মারমা দাবি করেন, “ইউপিডিএফ একটি গণতান্ত্রিক দল, যা জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে আসছে। আমাদের কোনো সশস্ত্র দল নেই, ফলে বন্দুকযুদ্ধে জড়িত থাকার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।”

পাহাড়ে একদিকে লাগাতার অবরোধ ও পরিবহন খাতের ধর্মঘট, অন্যদিকে সশস্ত্র সংগঠনগুলোর মধ্যকার সংঘাত সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন