সিলেট হৃদয়ের মহাকাব্যিক ২৪২*, অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের লিড
সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিনে এক অবিশ্বাস্য রূপকথা লিখলেন তাওহিদ হৃদয়। ১৮৪ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে যখন ১৫০ রানের বেশি পিছিয়ে পড়ার শঙ্কায় বাংলাদেশ, ঠিক তখনই একাই ম্যাচের চিত্র বদলে দিলেন এই ব্যাটার। তাওহিদ হৃদয়ের রেকর্ডগড়া অপরাজিত ২৪২ রানের মহাকাব্যিক ইনিংসে ভর করে প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ৩০ রানের লিড পেয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। হৃদয়ের এই অভাবনীয় ব্যাটিংয়ে ১০ জনের দল নিয়ে খেলেও প্রথম ইনিংসে ৩৮৬ রান তোলে বাংলাদেশ।
রেকর্ডবুকের পাতায় হৃদয়
প্রথম দ্বিশতক হাঁকানোর পথেই একাধিক ঐতিহাসিক রেকর্ড গড়েন তাওহিদ হৃদয়। মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসানের পর চতুর্থ বাংলাদেশি ব্যাটার হিসেবে টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরির কৃতিত্ব দেখালেন তিনি। ২০১৮ সালে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে মুশফিকুর রহিমের করা ২১৯* রানের রেকর্ড টপকে এটি এখন টেস্টে যেকোনো বাংলাদেশি ব্যাটারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রান। ইনিংসে ১১টি ছক্কা হাঁকিয়ে এক ইনিংসে বাংলাদেশি ব্যাটার হিসেবে সর্বোচ্চ ছক্কার তামিম ইকবালের রেকর্ড ভেঙে দেন তিনি। টেস্টের এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ১২টি ছক্কার বিশ্বরেকর্ড রয়েছে ওয়াসিম আকরাম ও যশস্বী জয়সওয়ালের দখলে, হৃদয় তাদের ঠিক এক ধাপ পেছনে গিয়ে থামেন। এছাড়া ২০১৭ সালে ওয়েলিংটনে সাকিবের করা এক দিনে ২১২ রানের রেকর্ড টপকে এক দিনে ২১৩ রান করার নতুন রেকর্ড গড়েন তিনি। পাশাপাশি গত বছর আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে মাহমুদুল হাসান জয়ের ১৭১ রান টপকে সিলেটের মাঠে এটিই এখন টেস্টের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রান।
বিপর্যয় থেকে প্রতিরোধ
দিনের শুরুটা বাংলাদেশের জন্য বেশ সংকটময় ছিল। প্রথম দিনে বাঁ গোড়ালিতে চোট পেয়ে ওপেনার শাদমান ইসলাম মাঠ ছাড়ায় ১০ ব্যাটার নিয়ে খেলছিল দল। সকালে জোমেল ওয়ারিক্যানের স্পিন তোপে মুশফিকুর রহিম (৩৪) ও লিটন দাস পরপর দুই ওভারে কভারে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। এরপর মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদ দ্রুত বিদায় নিলে ১৮৪ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়ে স্বাগতিকরা।
তাইজুল ও তাসকিনের সঙ্গে অবিশ্বাস্য জুটি
সেখান থেকেই শুরু হয় তাওহিদ হৃদয়ের পাল্টা আক্রমণ। নিম্নসারির ব্যাটার তাইজুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে শেষ দুই উইকেটে তিনি যোগ করেন ২০২ রান। বিশেষ করে তাইজুলের সঙ্গে অষ্টম উইকেটে গড়ে তোলেন ১১৭ রানের অতি গুরুত্বপূর্ণ এক জুটি। তাইজুল ২২ রান করতে ৫৬টি বল মুখোমুখি হয়ে হৃদয়কে প্রান্ত বদলে সাহায্য করেন। মধ্যাহ্নভোজের পর হৃদয় সম্পূর্ণ আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে ব্যাটিং শুরু করেন। শামার জোসেফ, রোস্টন চেজ ও জেইডেন সিলসদের ওপর তাণ্ডব চালিয়ে চার-ছক্কার বৃষ্টি নামান।
চা-পানের বিরতির পর চতুর্থ ওভারে ওয়ারিক্যানকে সিঙ্গেল নিয়ে নিজের ডাবল সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন হৃদয়। শেষ পর্যন্ত সিলসের বলে তাসকিন ক্যাচ দিলে ৩৮৬ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে ওয়ারিক্যান ১০৪ রানে ৪টি এবং সিলস ৫৮ রানে ২টি উইকেট নেন। দিনের শেষভাগে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিনা উইকেটে ৭ রান তুলেছে, এখনও তারা বাংলাদেশ থেকে ২৩ রানে পিছিয়ে রয়েছে।























