জিয়ার ছবিহীন ব্যানার, বঙ্গবন্ধুকে ‘জাতির পিতা’ আখ্যা: পরে স্কচটেপ দিয়ে জিয়ার ছবি লাগিয়ে অনুষ্ঠান
জয়পুরহাটে বিএনপির বিপ্লব ও সংহতি দিবসের আলোচনা সভায় জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারীর উপস্থিতিতে দুবার হট্টগোল হয়েছে।
সভার ব্যানারে জিয়াউর রহমানের ছবি না দেখে বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রথমে ক্ষোভ জানান। পরে এক বক্তা শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘জাতির পিতা’ ও ‘বঙ্গবন্ধু’ বলে উল্লেখ করলে আবার উত্তেজনা ছড়ায়।
শনিবার, ৭ই নভেম্বর, সকালে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সভাটি হওয়ার কথা ছিল। ব্যানারে জিয়াউর রহমানের ছবি না থাকায় প্রধান অতিথি প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী প্রথমে মঞ্চে ওঠেননি। এ নিয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীরা অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
পরে জেলা প্রশাসক ও অন্য কর্মকর্তারা মঞ্চে গিয়ে মূল ব্যানারটি নামিয়ে আনেন। এরপর স্কচটেপ দিয়ে তাতে জিয়াউর রহমানের ছবি থাকা একটি পোস্টার লাগানো হয়। তারপর প্রতিমন্ত্রী মঞ্চে ওঠেন। এ কারণে নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা পর সভা শুরু হয়।
সভা চলার সময় জিয়া পরিষদের জয়পুরহাট পৌর শাখার সাধারণ সম্পাদক মারুফ হাসান বক্তব্য দেন। তিনি একাধিকবার শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘জাতির পিতা’ ও ‘বঙ্গবন্ধু’ বলে সম্বোধন করলে আবার উত্তেজনা তৈরি হয়।
এ সময় জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এ কে এম গোলাম মাহফুজ শুভ ডায়াসের দিকে এগিয়ে যান। পরে বক্তাকে ডায়াস থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানান জেলা ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও কৃষক দলের নেতাকর্মীরা।
ব্যানারে জিয়াউর রহমানের ছবি না থাকার কারণ ব্যাখ্যা করে জেলা প্রশাসক আল-মামুন মিয়া বলেন, ইন্টারনেট থেকে ছবি সংগ্রহ করে ব্যানারটি তৈরি করা হয়েছিল। এ ধরনের ভুলের জন্য তিনি সবার সামনে দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চান।
অনুষ্ঠানের নানা ত্রুটি এবং দুই দফা হট্টগোলের ঘটনায় ক্ষোভ জানান প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী। ঘটনাগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে ঘটানো হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি জেলা প্রশাসক ও জেলা পরিষদের প্রশাসককে নির্দেশ দেন।
জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ ওহাব এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা বলেন, ১৯ বছর পর এবার দিবসটি পালন করা হচ্ছে। এমন দিনে জিয়াউর রহমানের ছবি ছাড়া ব্যানার তৈরি হওয়াকে তারা অত্যন্ত বেদনাদায়ক বলে মন্তব্য করেন।
তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের ভেতরে থাকা ফ্যাসিবাদের দোসরদের চক্রান্তের বহিঃপ্রকাশ এটি।
পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পর সভায় বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার শাহনাজ বেগম, সিভিল সার্জন আল-মামুন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলজার হোসেনসহ অন্যরা।























