সুনামগঞ্জে চাঁদাবাজির সময় জামায়াতের রোকন ও দৈনিক সংগ্রামের প্রতিনিধিকে গণধোলাই
সুনামগঞ্জের চালবন পয়েন্টে বালু পাথর ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে দৈনিক সংগ্রামের প্রতিনিধি ও গুপ্ত সংগঠনের স্থানীয় অনলাইন মিডিয়া ওয়ান টিভির প্রতিনিধি এবং জেলা জামায়াতের রোকন আনোয়ার হোসেনকে গণধোলাই দিয়েছে জনতা।
পরে তাকে আটক করে পুলিশে দিতে চাইলে ওয়ান টিভির পরিচালক গুপ্ত সংগঠনের নেতা শহিদূর প্রশাসনকে ম্যানেজ করে ছাড়িয়ে এনেছেন। তবে এর আগে এই জামায়াতে ইসলামীর নেতাকে গণধোলাই দেওয়া হয়।
শুক্রবার রাতে সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার চালবন পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে। আনোয়ার হোসেন শাল্লা উপজেলার চোরেরগাঁও খ্যাত উজানগাঁওয়ের শামছু মিয়ার পুত্র।
জানা গেছে, আনোয়ার হোসেন সুনামগঞ্জ শহরের মদনিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন ইসলামি ফাউন্ডেশনের মেসে বসবাস করতেন। এসময় তিনি নিজেকে আওয়ামী লীগ নেতাদের ঘনিষ্ঠ পরিচয় দিয়ে চলাফেরা করতো। ৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নিজ পরিচয়ে বেরিয়ে আসেন। পরে জানা যায় তিনি জামায়াতের রোকন পদে রয়েছেন।
এরপর থেকে নানাভাবে তিনি ও তার ভাই স্টার নিউজের জেলা প্রতিনিধি, শিবির নেতা আমির হোসাইন চাঁদাবাজি শুরু করে। আমির হোসাইন কয়েক মাস আগে যাদুকাটা নদী থেকে চাঁদা তুলতে গিয়ে আটক হন এবং তার একটি অডিও ভাইরাল হয়।
এই দুইভাই সাংবাদিকের পরিচয়পত্র ব্যবহার করে হঠাৎ জেলা শহরে এসে বেপরোয়া চাঁদাবাজি করছেন বলে জানান স্থানীয় সাংবাদিকরা। এই চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের নেতৃত্ব দিচ্ছে গুপ্ত সংগঠনের নেতা শহিদনূর।
৫ই আগস্টেও পর ফ্যাসিস্ট তকমা দিয়ে ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ, সরকারি চাকুরিজীবীসহ বিভিন্ন পেশাজীবীদের জিম্মি করে চাঁদা আদায়সহ নানাভাবে সুযোগ সুবিধা আদায় করে যাচ্ছেন তারা। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জিম্মি করে তারা এখনো চাঁদাবাজি করছেন। বালুমহাল, পাথরমহাল, জলমহালসহ নানা খাত থেকে প্রতিদিন চাঁদাবাজি করছেন।
আওয়ামী লীগের আমলে এই বাহিনীর প্রধান শহিদনূর সীমান্তে পেঁয়াজ ও চিনি সিন্ডিকেটের সঙ্গে চাঁদাবাজি করতেন, এমন ঘটনা ওপেন সিক্রেট।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত এক সিনিয়র সাংবাদিক বলেন, ৫ই আগস্টের পর জামায়াতের সাংবাদিকের সংখ্যা বেড়েছে। তারা সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে তারা অবাধে যাতায়াত করে নানাভাবে সুবিধা নিচ্ছেন। কর্মকর্তাদের জিম্মি করে তারা ফায়দা হাসিল করছেন।
তারা সংগঠিত হয়ে এসব কাজ করার পাশাপাশি চাঁদাবাজিও করছেন। সরকারের বিরুদ্ধেও ষড়যন্ত্র করছেন তারা। তাছাড়া আমাদের দলের মধ্যেও নানাভাবে বিভক্তি সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করছেন।
এই সাংবাদিক আরো বলেন, জামায়াতের দায়িত্বশীল আনোয়ার ও আমির হোসেন চাঁদা তুলছেন নানা খাত থেকে। আমির কয়েকমাস আগে তাহিরপুরে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে ধরা খান, এবার তার ছোট ভাই সংগ্রামের প্রতিনিধি আনোয়ার হোসেনও ধরা খেয়েছেন।
লালপুর এলকার এক ছাত্রদল নেতা বলেন, আনোয়ার হোসেন গত বৃহষ্পতিবার চাঁদাবাজি করতে এসে জনতার হাতে ধরা খেয়ে বেধড়ক মার খেয়েছেন। পরে আমরা খোঁজ নিয়ে জেনেছি তিনি জামায়াতের রোকন। জামায়াত সুনামগঞ্জে শুধু সাংবাদিকতার নামে চাঁদাবাজি করছে না বালু ও পাথর মহালেও তারা নিয়মিত চাঁদাবাজি করছে।
এই চাঁদাবাজি অবাধে চালানোর জন্য তারা আনোয়ার ও আমিরদের মাঠে নামিয়েছে। নিজেরা মিডিয়া খুলে চাঁদাবাজি ও ষড়যন্ত্র করছে, বলেন তিনি।























