শতাধিক খাম্বা রেখেই সড়কের ৯৫% সম্পন্ন, উদ্বোধনের আগে আবার কাটতে হবে রাস্তা?
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন-ডাঙ্গা সড়কের প্রায় পাঁচ কিলোমিটার অংশে বিদ্যুতের খাম্বা তথা খুঁটি রেখেই নতুন করে নির্মাণকাজ শেষ করা হয়েছে। স্থানীয়দের বারবার আবেদন সত্ত্বেও সড়ক থেকে শতাধিক খুঁটি সরানো হয়নি। এর মধ্যে ৪৬টি খুঁটি সড়কের মূল চলাচলের জায়গায় থাকায় যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলে বাধা তৈরি হচ্ছে। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।
ঝুঁকিপূর্ণ খুঁটিগুলো দ্রুত সরানোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। সড়ক নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। ফলে সড়কটি উদ্বোধনের আগেই খুঁটি সরাতে আবার নতুন অংশ কাটতে হবে কি না—এমন প্রশ্ন উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কটি নতুন করে নির্মিত হলেও এর ওপর দাঁড়িয়ে থাকা খুঁটিগুলো পুরোনো। সদ্য নির্মিত রাস্তার মাঝখানে, চলাচলের অংশে এবং একেবারে কিনারে সারি সারি বিদ্যুতের খুঁটি রয়েছে।
সড়কটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়নি, তাই বড় যানবাহনের নিয়মিত চলাচল শুরু হয়নি। তবে অটোরিকশাসহ স্থানীয় ছোট যানবাহন চলাচল করছে। সড়কের ওপর থাকা খুঁটিগুলো তাদের চলার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দিনের আলোতেও ছোট যানবাহনের চালকদের খুঁটি হিসাব করে পাশ কাটিয়ে যেতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, সড়কটি পুরোপুরি চালু হয়ে বড় যানবাহন চলতে শুরু করলে ঝুঁকি আরও বাড়বে।
কাঞ্চন পৌরসভা ও ভোলাবো ইউনিয়নের সঙ্গে নরসিংদীর পলাশ, ঘোড়াশাল এবং আশপাশের এলাকার যোগাযোগের জন্য কাঞ্চন-ডাঙ্গা সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) অধীনে পাঁচ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৫ কোটি ৬২ লাখ ৪৪ হাজার টাকা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাস্তার মাঝখানে খুঁটি রেখে নির্মাণকাজ চালানোর পরিস্থিতি হঠাৎ তৈরি হয়নি। কাজ শুরুর সময়েই খুঁটিগুলো সরানোর জন্য নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর কাছে আবেদন করেছিল সওজ। খুঁটি স্থানান্তরের খরচ নির্ধারণ করে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ সওজকে টাকা জমা দিতে বলে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে সেই অর্থ পরিশোধ করা হয়নি। ফলে খুঁটিগুলো সরানো যায়নি।
তবে সড়ক নির্মাণ থেমে থাকেনি: ঢালাইসহ কাজ এগিয়ে প্রায় ৯৫ শতাংশ শেষ হয়েছে, আর খুঁটিগুলো আগের জায়গাতেই রয়ে গেছে।
পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বলছে, ২০২৫ সালেই খুঁটি সরানোর ব্যয়ের হিসাব সওজকে জানানো হয়েছিল। অর্থ জমা না পড়ায় তখন স্থানান্তরের কাজ শুরু করা যায়নি। এখনো টাকা না পেলেও সরকারি সড়কের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে খুঁটি সরানোর কাজ শুরু করেছে সংস্থাটি।
পল্লী বিদ্যুৎ আগামী দুই মাসের মধ্যে সব খুঁটি সরিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
সওজ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে কাঞ্চন-ডাঙ্গা সড়কটি ২৪ ফুট প্রশস্ত করে নতুন করে নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। সড়কের প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার অংশে পল্লী বিদ্যুতের শতাধিক খুঁটি রয়েছে। এর মধ্যে ৪৬টি খুঁটি সড়কের মূল অংশের ভেতরে পড়েছে।
খুঁটি সরানোর আগে ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধের শর্ত দিয়েছিল পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। কিন্তু বাজেটে খুঁটি স্থানান্তরের জন্য বরাদ্দ না থাকায় সওজ তাৎক্ষণিকভাবে টাকা দিতে পারেনি। ফলে খুঁটি রেখেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সড়কের প্রায় ৯৫ শতাংশ নির্মাণকাজ শেষ করে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাস্তার ওপর বিদ্যুতের খুঁটি থাকায় যানবাহন চলাচল নিয়মিত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। খুঁটি এড়িয়ে যেতে গিয়ে চালকদের কখনো কখনো সড়কের বিপরীত পাশে চলে যেতে হচ্ছে; কোনো কোনো যানবাহন উল্টেও পড়ছে।
তাদের দাবি, প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন সড়কটি স্থানীয়দের যাতায়াত সহজ করার পাশাপাশি যানবাহন চলাচলেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কিন্তু খুঁটি না সরিয়ে কাজ শেষ হলে ভবিষ্যতেও দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকে যাবে।
তাই দ্রুত খুঁটি অপসারণ করে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচলের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
ভোলাবো ইউনিয়নের পাইস্কা গ্রামের বাসিন্দা কাজী রেজাউল হক বলেন, সড়কের ওপর খুঁটি থাকায় পথচারী ও যানবাহন—দুই পক্ষেরই চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। সড়ক তৈরি হলেও খুঁটি সরানো না হওয়ায় মানুষ এর সুবিধা পুরোপুরি পাচ্ছে না। তিনি দ্রুত খুঁটিগুলো অপসারণের আহ্বান জানান।
কাঞ্চন পৌরসভার বিরাবো গ্রামের আনোয়ার হোসেনের মতে, রাস্তার মাঝখানে খুঁটি থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রাতে খুঁটি এড়িয়ে চলতে গিয়ে চালকদের সমস্যায় পড়তে হয়, ফলে দুর্ঘটনাও বাড়ছে।
নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার আবুল বাশার আজাদ বলেন, সড়কের মাঝখানে থাকা খুঁটিগুলো সরানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ কাজের জন্য সমিতির নিজস্ব ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে নয়টি খুঁটির কাজ শেষ হয়েছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে পুরো কাজ সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা করছেন।
সওজের নারায়ণগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম জানান, খুঁটি সরানোর প্রয়োজনীয় বাজেট চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রধান কার্যালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এখনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। বাজেট হাতে এলেই পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে অর্থ পরিশোধ করা হবে। এর মধ্যেই খুঁটি সরানোর কাজ শুরু করার জন্য পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।























