আকাশ আমার ছাদ হবে, মাটি আমার ঘর।” -দেশরত্ন শেখ হাসিনার এক নির্মোহ ও অনন্য জীবনদর্শন

অথর
কুষ্টিয়া অনুসন্ধান নিউজ ডেক্স :   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :1 November 2026, 8:53 PM | নিউজটি পড়া হয়েছে : 3 বার
আকাশ আমার ছাদ হবে, মাটি আমার ঘর।” -দেশরত্ন শেখ হাসিনার এক নির্মোহ ও অনন্য জীবনদর্শন

 

পার্থিব ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থেকেও যিনি নিজেকে রাখতে পেরেছেন মোহের ঊর্ধ্বে, ইতিহাসে তাঁর নাম অনন্য উচ্চতায় আসীন থাকে। বাংলাদেশের ইতিহাসে রেকর্ড পাঁচবারের প্রধানমন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও তিনি নিজের জন্য এক চিলতে জমিও ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে পরিণত করেননি। তাঁর একমাত্র ঠিকানা এই বাংলার মাটি, নির্ভরতার ছাদ এই বাংলার আকাশ, আর পরমাত্মীয় এই দেশের কোটি কোটি সাধারণ মানুষ। তাঁর এই জীবনাবস্থা বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এক বিরল ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।

ক্ষমতার অলিন্দে কিংবা রাষ্ট্রীয় প্রটোকলের শীর্ষে থেকে অনেকেই বিত্তবৈভবের পাহাড় গড়তে ব্যস্ত থাকেন। কিন্তু শেখ হাসিনার জীবন প্রমাণ করে—প্রকৃত নেতৃত্ব ইট-পাথরের প্রাসাদে সীমাবদ্ধ নয়। যাঁর শেকড় প্রোথিত রয়েছে এ দেশের খেটে খাওয়া মানুষের হৃদয়ে, ব্যক্তিগত অর্জনের হিসাব তাঁর কাছে সবসময়ই তুচ্ছ। ক্ষমতার মসনদ তাঁর কাছে কখনোই জীবনের মোক্ষ ছিল না; তাঁর আসল অর্জন বাংলার মানুষের ভালোবাসা আর আস্থা।

 

এই নির্মোহতার সবচেয়ে বড় প্রমাণ ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের সেই ঐতিহাসিক বাড়ি। পৈতৃক সূত্রে পাওয়া এই আশ্রয়টুকুও তিনি নিজের কাছে রাখেননি। ছোট বোন শেখ রেহানাকে সঙ্গে নিয়ে বাড়িটি তিনি তুলে দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর ট্রাস্টের হাতে, জাতির সম্পদ হিসেবে। যিনি নিজের জন্য একটি ঘরও গড়েননি, তিনিই আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে লাখো ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের মাথার ওপর তুলে দিয়েছেন নিরাপদ ছাদ। নিজের ছাদ আকাশ হলেও অন্যের ঘর গড়ে দেওয়াতেই ছিল তাঁর পরম তৃপ্তি।

এই প্রত্যাবর্তন তাঁর জীবনে নতুন নয়। ১৯৭৫ সালে সপরিবারে পিতাকে হারান তিনি। দীর্ঘ ছয় বছরের নির্বাসন শেষে ১৯৮১ সালের ১৭ মে সামরিক শাসনের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে তিনি দেশে ফিরেছিলেন। সেদিন তাঁর হাতে কোনো সম্পদ বা ক্ষমতা ছিল না। ছিল কেবল বিমানবন্দর থেকে মানিক মিয়া এভিনিউ পর্যন্ত লাখো মানুষের অশ্রুসিক্ত অভ্যর্থনা। অথচ সেদিন নিজের পৈতৃক বাড়িতেও ঢুকতে পারেননি তিনি। তৎকালীন সরকার বাড়িটি তালাবদ্ধ করে রাখায় সামনের রাস্তায় বসেই মা-বাবা-ভাইদের জন্য দোয়া করেছিলেন। সেদিনও তাঁর ছাদ ছিল খোলা আকাশ, ঘর ছিল বাংলার মাটি।

এরপর ঘাতকচক্র বারবার তাঁর পথে মৃত্যুফাঁদ পেতেছে। ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় আইভি রহমানসহ ২৪ জন প্রাণ হারান। তবু তিনি মৃত্যুভয়কে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এগিয়ে গেছেন সামনের দিকে।

 

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের গণতান্ত্রিক পথ আজ কলুষিত। আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতাকর্মীর ওপর চলছে নির্যাতন, হত্যা, গায়েবি মামলা ও জেল-জুলুমের স্টিম রোলার। সাধারণ মানুষের জীবনও দুর্বিষহ; খুন, ধর্ষণ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন আজ নিত্যদিনের ঘটনা। আইনের শাসন ও মৌলিক অধিকার আজ বিপন্ন।

এই ক্রান্তিলগ্নে দেশের মানুষের আর্তনাদ তাঁকে শান্ত থাকতে দেয়নি। গত জুলাইয়ে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপিকে তিনি জানিয়েছেন, ডিসেম্বরের মধ্যেই দেশে ফিরবেন। তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন যে ফিরলে তাঁকে হত্যা করা হতে পারে, গ্রেপ্তার কিংবা কারাগারে পাঠানো হতে পারে। তবু তিনি ফিরবেন, কারণ তাঁর মানুষ তাঁকে ডাকছে। তাঁর অনুপস্থিতিতে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়কে তিনি আইনের পোশাক পরানো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে আখ্যা দিয়েছেন। লক্ষণীয়, হিউম্যান রাইটস ওয়াচও বলেছে যে সাবেক সরকারের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বহু মামলায় ন্যায়বিচারের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মানা হচ্ছে না।

পাঁচবারের সফল এই রাষ্ট্রনায়কের সরল, নির্মোহ ও শেকড়সংলগ্ন জীবনদর্শন আমাদের শেখায়—প্রকৃত শক্তি ব্যাংকের হিসাব বা ক্ষমতার চেয়ারে নয়, মানুষের ভালোবাসায়। সমস্ত প্রতিকূলতা ও ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে তাঁর ডিসেম্বরে ফিরে আসার ঘোষণা তাই কেবল একটি রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন নয়। এটি বাংলার আকাশ ও মাটির সাথে তাঁর এক চিরন্তন, অবিচ্ছেদ্য বন্ধনের দুর্নিবার জয়গান

সংবাদটি শেয়ার করুন