‘রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র জ্বালানি নিরাপত্তার পথে ঐতিহাসিক মাইলফলক’ স্বীকার করলেন আমলারাই

অথর
কুষ্টিয়া অনুসন্ধান নিউজ ডেক্স :   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :20 October 2026, 5:49 AM | নিউজটি পড়া হয়েছে : 1 বার
‘রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র জ্বালানি নিরাপত্তার পথে ঐতিহাসিক মাইলফলক’ স্বীকার করলেন আমলারাই

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেছেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পথে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। এ প্রকল্প দেশের জন্য একটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও প্রথম ধরনের উদ্যোগ।

রোববার বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা) আয়োজিত বেসিক প্রফেশনাল ট্রেনিং কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের যে প্রকল্পটি নিয়ে বিএনপি-জামায়াতসহ বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষ বহু বছর ধরে ব্যাপক সমালোচনা করেছে, বিএনপির সাবেক মহাসচিব ও বর্তমান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলও এই প্রকল্পের তীব্র বিরোধিতা করে বলেছিলেন বাংলাদেশকে শেখ হাসিনা পারমাণবিক দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে ঠেলে দিয়েছেন, সেই প্রকল্পটিই এখন দেশ-জাতির জন্য কতোটা গুরুত্বপূর্ণ তা এই সরকারি আমলাদের বক্তব্যেই উঠে এলো এবার।

বিজ্ঞান সচিব বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ক্রিটিক্যালিটি গত ১১ই অক্টোবর সফলভাবে অর্জিত হয়েছে এবং খুব শিগগিরই জাতীয় গ্রিডে সংযোগ প্রদানের মাধ্যমে এটি দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে ভূমিকা রাখবে।

দেশের তরুণ বিজ্ঞানী ও ইঞ্জিনিয়ারদের আন্তর্জাতিক মানের অভিজ্ঞতা দিয়ে সমৃদ্ধ করার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।

তিনি আরও বলেন, পারমাণবিক খাতে শুধু উৎপাদনই শেষ কথা নয়; এর অপারেশন, রেগুলেশন এবং নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রাতিষ্ঠানিক ও অপারেশনাল উভয়স্তরেই সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।

অনুষ্ঠানে (নবীন বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলী) প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশ্যে সচিব বলেন, আইএইএ-এর বিশেষজ্ঞদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার পূর্ণ সদ্ব্যবহার করতে হবে এবং কোনো রকম দ্বিধা বা সংকোচ না রেখে নিজেদের দক্ষতা বাড়াতে হবে। এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি দেশের পারমাণবিক খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং টেকসই ভবিষ্যৎ গঠনে অনন্য ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বক্তব্যে বিজ্ঞান সচিব আগামী ৩ থেকে ৫ বছরের মধ্যে বায়রা থেকে প্রতি বছর ৩ থেকে ৫ জন আন্তর্জাতিক মানের রেগুলেটর তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেন, যারা দেশের অভ্যন্তরীণ কাজের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গবেষণা সংস্থায় অবদান রাখবেন।

চার সপ্তাহের এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে আইএইএ হতে আসা চারজন কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞ দেশীয় বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞরা প্রশিক্ষণ প্রদান করবেন।

অনুষ্ঠানে বায়েরা, বায়েক এবং এনপিসিবিএল-এর বিভিন্ন পর্যায়ের ৪০ জন (নবীন বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলী) প্রশিক্ষণার্থীসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, বেসিক প্রফেশনাল ট্রেনিং কোর্স ১৮ই অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছে, আগামী ১২ই নভেম্বর পর্যন্ত চলবে।

‘কৃতিত্ব যার, নাম নেই তার’
এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বাস্তবায়নের পেছনে যে নেতৃত্ব, পরিকল্পনা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা কাজ করেছে, তা মূলত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময়ের।

২০১১ সালে রাশিয়ার সঙ্গে পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে চুক্তি করে আওয়ামী লীগ সরকার। ২০১৩ সালে শুরু হয় নির্মাণের আনুষ্ঠানিকতা। ২০১৭ সালে কেন্দ্রটির মূল নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই।

রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত্ব সংস্থা রোসাটমের মাধ্যমে ৯৩ শতাংশ ঋণ সহযোগিতায় (প্রায় ১১.৩৮ বিলিয়ন ডলার) এই প্রকল্প বাস্তবায়নের পথ তৈরি হয়। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত চুক্তি এটি। অথচ এখন বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলেও এসব ইতিহাস ধামাচাপা পড়ে যাচ্ছে।

ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার এবং বর্তমান বিএনপি সরকার প্রকল্পটি প্রসঙ্গে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের কথা এড়িয়ে যাচ্ছে। বিজ্ঞান মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ-জ্বালানি মন্ত্রাণলয়, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বিভাগসহ কোনো দপ্তরের কোনো বিবৃতিতে নেই—প্রকল্পটি কবে, কার সময় শুরু হয়েছিল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই প্রকল্পের একজন জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলী বলেন, “বিশ্বমানের একটি প্রকল্পের ইতিহাসকে ছেঁটে ফেলা উচিত নয়। এটা কারও দলীয় অর্জন নয়, রাষ্ট্রীয় সম্পদ—তবে ইতিহাস তো মুছে ফেলা চলে না।”

বিশ্লেষকদের মতে, বড় প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন যেমন প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক সক্ষমতার বিষয়, তেমনি রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ফলও। রূপপুর কেন্দ্র তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ সরকারের এ ধরনের সাহসী ও দূরদর্শী সিদ্ধান্তসমূহ আগামী দিনের বাংলাদেশকে এনার্জি নিরাপত্তা, দক্ষতা ও শিল্পায়নে অনেক দূর এগিয়ে নেবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরও পড়ুন