সৌদি আরামকোর সদর দপ্তরে হুথি ক্ষেপণাস্ত্রের হামলা, যৌথ সহয়তা’র ‘মক্কা জোট’ যৌথ নিন্দা প্রকেশেই সীমিত

অথর
কুষ্টিয়া অনুসন্ধান নিউজ ডেক্স :   বাংলাদেশ
প্রকাশিত :14 October 2026, 5:45 PM | নিউজটি পড়া হয়েছে : 1 বার
সৌদি আরামকোর সদর দপ্তরে হুথি ক্ষেপণাস্ত্রের হামলা, যৌথ সহয়তা’র ‘মক্কা জোট’ যৌথ নিন্দা প্রকেশেই সীমিত

মঙ্গলবার রাতে সৌদি আরামকোর দাহরানস্থ সদর দপ্তরে আগুন ধরে গেছে। ভবনের আশপাশে জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা রয়টার্সকে জানিয়েছে ছয়টি সূত্র। চারটি সূত্র জানায়, ভবনটি খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

হুথিদের মিসাইল হামলা
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময় আরামকোর সদর দপ্তর আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে এবং কমপ্লেক্সের একটি অংশে আগুন ধরেছে। ঘটনা সম্পর্কে জানা একজন ব্যক্তির বরাতে ব্লুমবার্গ জানায়, আগুন ইতিমধ্যে নিভিয়ে ফেলা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ স্পষ্ট নয়, আর আগুনের কারণ কী ছিল বা ভূপাতিত প্রজেক্টাইলের ধ্বংসাবশেষ থেকে আঘাত লেগেছে কি না, তা-ও তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

রয়টার্সের সূত্র জানায়, ভবনটিতে আঘাত লেগেছে, তবে সরাসরি আঘাত নাকি ধ্বংসাবশেষ থেকে, তা পরিষ্কার নয়। আরামকোর পক্ষ থেকে কোনো সরকারি মন্তব্য বা নিশ্চিতকরণ আসেনি। বুধবার আরামকোর কর্মীদের বাসা থেকে কাজ করতে বলা হয়েছে।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, দাহরানে প্রতিহত ও ধ্বংস করা একটি ক্ষেপণাস্ত্রের টুকরো একটি আবাসিক এলাকায় পড়েছে। এ ঘটনার অল্প পরে সৌদি সিভিল ডিফেন্স রিয়াদের জন্য সতর্কবার্তা জারি করে এবং রাজধানীতে জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

এর আগে গত সপ্তাহান্তে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা হয়। রবিবারের নতুন হামলায় একজন নিহত ও প্রায় এক ডজন আহত হন বলে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তার আগের দিনের হুথি-দাবিকৃত হামলায় ১৩ জন নিহত ও ৩০০-র বেশি আহত হয়েছিলেন।

নিষ্ক্রিয় মক্কা জোট সাথীরা
সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের এই প্রতিরক্ষা চুক্তি কার্যকর হয় ২০২৬ সালের ৭ আগস্ট। এটি ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সৌদি-পাকিস্তান পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির সম্প্রসারিত রূপ। চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা সবার ওপর হামলা হিসেবে গণ্য হবে। তবে বিশ্লেষকদের অনেকের মতে, নেটোর মতো সমন্বিত কমান্ড কাঠামো না থাকায় এই চুক্তি থেকে বড় ধরনের যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার সম্ভাবনা কম।

আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরব চুক্তির আওতায় “প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা” সক্রিয় করতে এবং হুথিদের হামলা ঠেকাতে সৌদি আরবে দ্রুত সেনা মোতায়েনে সম্মত হয়েছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পৃথক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, তিন দেশ সম্মত সামরিক বাহিনী ও সক্ষমতা সরবরাহ করবে এবং তাদের দ্রুত মোতায়েন নিশ্চিত করবে।

পাকিস্তানের অবস্থান: চুক্তি সক্রিয় হওয়ার আগে সেপ্টেম্বরে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছিলেন, ইয়েমেনের সংঘাত সৌদি আরবে ছড়ালে মক্কা চুক্তি অবশ্যই কার্যকর হবে। ফরেন পলিসির প্রতিবেদনে ওয়াশিংটনভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের এক অংশীদার উজাইর ইউনুসের বরাতে বলা হয়, পাকিস্তানের অবস্থান হলো, মক্কা চুক্তি থাকুক বা না থাকুক, সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা হবেই। ইসলামাবাদের সূত্রের বরাতে তিনি দাবি করেন, চুক্তি সক্রিয় হওয়ার আগেই পাকিস্তান ইয়েমেনে সৌদি আরবকে বিমান, নৌ ও স্থল সহায়তা বাড়িয়েছে।

তুরস্কের অবস্থান: তুরস্ক সীমিত ভূমিকার ইঙ্গিত দিয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বৃহস্পতিবার বলেছেন, সৌদি আরবকে কীভাবে সহায়তা করা যায় তা তুরস্ক খতিয়ে দেখছে, তবে সেনা মোতায়েন ও আক্রমণাত্মক অভিযানে অংশগ্রহণ বাতিল করেছেন। কর্মকর্তারা আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, আঙ্কারা মূলত প্রতিরক্ষামূলক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছে। এ ছাড়া তুরস্কের পার্লামেন্ট এখনো চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করেনি, তাই সমর্থন এ পর্যন্ত মূলত দ্বিপাক্ষিক পর্যায়েই সীমিত।

যৌথ সহয়তা’র অঙ্গিকার যৌথ নিন্দা’য় সীমাবদ্ধ:
১২ অক্টোবর তুরস্ক, পাকিস্তান, মিসর ও সৌদি আরব (আর-ফোর গ্রুপ) রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলাকে “অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য বিপজ্জনক উসকানি” বলে নিন্দা জানায়। তারা সৌদি আরবের প্রতি সংহতি পুনর্ব্যক্ত করে এবং হামলা মোকাবিলায় সৌদির সব “বৈধ পদক্ষেপে” পূর্ণ সমর্থন জানায়। বিবৃতিতে হুথিদের সব পরিণতির জন্য সম্পূর্ণ দায়ী করা হয় এবং অবিলম্বে নিঃশর্ত হামলা বন্ধের দাবি জানানো হয়।

হুথি হামলার পর পাকিস্তান ও তুরস্কের সামরিক প্রতিক্রিয়া না আসায় চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এপির বরাতে তুরস্ক ও পাকিস্তান জানিয়েছিল, চুক্তির আওতায় সৌদি আরব থেকে তারা কোনো সহায়তার অনুরোধ পায়নি। তবে এটি আল জাজিরা ও ফরেন পলিসির পরবর্তী প্রতিবেদনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, যেখানে ৫ অক্টোবর চুক্তি সক্রিয়করণ ও সেনা মোতায়েনে সম্মতির কথা বলা হয়েছে।

সর্বশেষ অবস্থা

দাহরানের ঘটনা নিয়ে আজ (১৪ অক্টোবর) পর্যন্ত তুরস্ক, পাকিস্তান বা মক্কা প্যাক্টের পক্ষ থেকে আলাদা কোনো বিবৃতি খুঁজে পাইনি। হামলার দায় কোনো পক্ষ স্বীকার করেছে কি না, তা-ও এখনো নিশ্চিত নয়। বিষয়টি দ্রুত বদলাচ্ছে, তাই নতুন তথ্য এলে খবরটি হালনাগাদ করা দরকার।

সংবাদটি শেয়ার করুন